২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম সংসদে তিনটি কৃষি বিল প্রস্তাব করে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই বিল ঘোষণার পরই যেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। এই বিলের বিরোধিতা করে শুরু হয় বিক্ষোভ। দিল্লির সিংঘু বর্ডারে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যান দেশের নানান প্রান্তের কৃষক।
কেন্দ্র সরকারের তরফে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যে এই কৃষি আইন আদতে কৃষকদের ভালোর স্বার্থেই আনা হয়েছে। কিন্তু তা মানেন নি বিক্ষোভরত কৃষকরা। এই বিক্ষোভের আঁচ রাজনীতি ছাড়িয়েও নানান মহলে ছড়িয়ে পড়ে এই বিলের পক্ষে-বিপক্ষে নানান মন্তব্য করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কৃষকদের ফের মাঠে ফেরাতে একরকম বাধ্য হয়েই তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেয় মোদী সরকার। কিন্তু এবার জানা গেল যে এই কৃষি আইনকে সমর্থন করেছিলেন প্রায় ৮৬ শতাংশ কৃষক।
আসলে, ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই একটি প্যানেল গঠন করা হয় যা বাতিল হওয়া কৃষি আইন নিয়ে সমীক্ষা চালায়। আর এই সমীক্ষাতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, গোটা কৃষক সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৩ মিলিয়ন কৃষকদের সঙ্গে এই কৃষি বিল নিয়ে কথা বলে জানা গিয়েছে যে তাদের মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ কৃষকই তিন কৃষি বিলকে সমর্থন করেছিলেন।
এই প্যানেলের সদস্যরা হলেন অশোক গুলাটি, শেতকারি সঙ্ঘাতানা, প্রেসিডেন্ট অনীল গনওয়াত। তাদের কথায়, “এই তথ্য জানার পর এমন মনে হওয়ার যথেষ্ট আছে যে বেশ কিছু শতাংশ কৃষক যারা কৃষি বিল সমর্থন করেছিলেন, এই বিল প্রত্যাহার করা বা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত রাখা তাদের প্রতি অবিচার ছাড়া আর কিছু নয়”। প্রায় ৭৩টি কৃষক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই এই প্যানেলের সদস্যরা এই সিদ্ধান্তের উপনীত হয়েছেন।
অন্যদিকে এই প্যানেলের সমীক্ষা থেকেই জানা গিয়েছে যে দিল্লি সিংঘু সীমান্তে যে সমস্ত কৃষকরা আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে কোনও রকমের কথোপকথন হয়নি ঠিকই। কিন্তু তাদের বিরোধিতাকেও এই গণনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এতও বিরোধীতার মধ্যেও নতুন যে তথ্য উঠে এসেছে, তা যে গোটা দেশকে হতবাক করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।





