রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের গণহত্যাকাণ্ডে গোটা রাজ্য এখন উত্তপ্ত। গত সোমবার রামপুরহাটের তৃণমূল নেতা ভাদু শেখকে খুনের পর বগটুই গ্রামে শুরু হয় তৃণমূল দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। গ্রামের একের পর এক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে দশ জনের।
জানা গিয়েছে এই মৃতদের মধ্যে ৮ জন মহিলা, দু’জন শিশু। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রথমেই বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন যে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের দাবী, পুলিশ সামনে দাঁড়িয়ে থেকে আগুন লাগার ঘটনা দেখেছে, কিন্তু বাধা দেয় নি।
এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন তৈরি হয়। আজ, বুধবার বগটুই গ্রামে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তাঁকে বাধা দেয় পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, “উনি পুড়িয়েছেন, আমরা দেখতে এসেছি। বাংলার মেয়ের রাজত্বে ৮ জন মহিলাকে পুড়িয়েছেন, লজ্জা করে না? ওনার পদত্যাগ করা উচিত”।
এদিন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বগটুই গ্রামে পৌঁছেছেন সাংসদ অর্জুন সিংও। তিনি এই ঘটনায় বলেন, “আসল দোষীদের আড়াল করার জন্য সিভিক ভলান্টিয়ারদের বলি করা হচ্ছে”।
রামপুরহাটের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১১ জনকে গ্রেফতার করা ভাদু শেখকে খুনের অভিযোগে। আর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১২ জনকে। রাজ্যের বিশেষ তদন্তকারী দল সিট এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে বিজেপির দাবী, রাজ্য সরকারের যদি সাহস থাকে, তাহলে সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করাক। আগামীকাল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বগটুইয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে শুভেন্দু অধিকারী ও বাকি বিজেপি প্রতিনিধিরা বগটুই গ্রামে গিয়ে আদপে কারোর সঙ্গে কথা বলতে পারেন কি ন, এখন সেটাই দেখার।





