দিল্লিতে লাগাতার নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ অমিত শাহ্’র, দ্রুত চার্জশিট পেশ করার নির্দেশ

ফের ধর্ষণ কাণ্ডে শিরোনামে দিল্লি। গত কয়েকদিনের মধ্যেই পরপর নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগ উঠে এল দিল্লি থেকে। এই ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল দিল্লি সরকার। দোষীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অবিলম্বে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র নির্দেশে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। আজ, বৃহস্পতিবার এই বিষয় নিয়ে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে বসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা। দ্রুতই চার্জশিট পেশের কথা বলা হয়েছে পুলিশকে।

আরও পড়ুন- ধর্ষণের প্রতিবাদে বিজেপি মহিলা মোর্চার বিক্ষোভ ভবানী ভবন চত্বরে, পথ অবরোধের অভিযোগে গ্রেফতার অগ্নিমিত্রা পাল

প্রথমে দিল্লিতে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই নাবালিকার বাড়িতেও যান রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এরপর ফের দিল্লির ময়ূর বিহারে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। আজ পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, অমিত শাহ্‌’র নির্দেশে এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দিল্লি পুলিশকে চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে এই অভিযোগের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

৯ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে ফেলা হ্যঃ

এটি পুরনো দিল্লির ঘটনা। কিছুদিন আগে দলিত পরিবারের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। একটি শ্মশানের কাছেই থাকত ওই দলিত পরিবার। ৯ বছরের ওই নাবালিকা শ্মশানের লাগোয়া একটি ঠাণ্ডা পানীয় জলের জায়গা থেকে জল আনতে গিয়েছিল। কিন্তু অনেকক্ষণ বাড়ি না ফেরায় তার মায়ের সন্দেহ হয়। এরমধ্যেই খবর আসে যে ওই নাবালিকা বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছে। শ্মশানে গিয়ে দেখা যায়, নাবালিকার হাতে পোড়া দাগ আর ঠোঁট নীল হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, শ্মশানের প্রধান পুরোহিত রাধেশ্যাম তখন জোর করে দেহ সৎকার করানোর ব্যবস্থা করছিলেন। এই ঘটনায় পুরোহিত সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন রাহুল গান্ধী। পাশে থাকার আশ্বাস দিতে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরাও।

ময়ূর বিহারে বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ:

এই ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির ত্রিলোকপুরী এলাকায়। ছ’বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ময়ূরবিহার থানায় পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬এবি/ ৩৭৬ ডিবি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার তফশিলি জাতির হওয়ায় তফশিলী জাতি ও  উপজাতি আইনের ৩(২)(ভি) ধারাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় সম্মুগান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি ওই নাবালিকার প্রতিবেশী ছিল। গতকাল সুযোগ পেয়ে ছয় বছরের ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত।

RELATED Articles