দীর্ঘ টানাপোড়েন, রাজনৈতিক চাপানউতোর আর একের পর এক আইনি লড়াই—শেষ পর্যন্ত নাটকীয় মোড় নিল দিল্লির বহুচর্চিত আবগারি নীতি মামলা। বহু মাস ধরে যে অভিযোগকে ঘিরে উত্তাল ছিল রাজধানীর রাজনীতি, সেই মামলার রায় ঘিরে ছিল প্রবল কৌতূহল। আদালত চত্বরে সকাল থেকেই নজিরবিহীন ভিড়, সমর্থক থেকে কৌতূহলী মানুষ—সবার চোখ ছিল একটাই ঘোষণার দিকে।
এ দিন দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে আনা আবগারি দুর্নীতির অভিযোগে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের বেকসুর খালাস ঘোষণা করেন। আদালত জানায়, এত গুরুতর অভিযোগ প্রমাণের জন্য শক্ত তথ্য ও নথির প্রয়োজন, যা তদন্তকারী সংস্থা আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। একই মামলায় অভিযুক্ত ২৩ জনকেই নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার মুহূর্তেই আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকে আদালত কক্ষ। বহুদিনের চাপা উত্তেজনা যেন একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। আদালত থেকে বেরিয়ে কেজরীবাল চোখের জল সামলাতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি দুর্নীতি করিনি। জীবনে সততা নিয়েই চলেছি। আজ আদালত বলেছে আমরা নির্দোষ।” তাঁর স্ত্রী সুনীতা কেজরীবালও জানান, সত্যের জয় হয়েছে। সিসোদিয়াও স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, দিল্লির আবগারি নীতি প্রণয়নকে ঘিরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া। পরবর্তীতে তাঁরা জামিন পান এবং নির্বাচনী লড়াইয়েও অংশ নেন। তবে বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির ফল আশানুরূপ হয়নি, দিল্লির ক্ষমতায় আসে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আবগারি মামলাই নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
আরও পড়ুনঃ Judicial Officer in SIR: ডমিসাইল সার্টিফিকেট বিতর্কে নতুন মোড়, কমিশনের নির্দেশিকা কি আদালতবিরোধী? এসআইআর নিয়ে রাজ্য-কমিশন সংঘাতে শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ!
রায়ে আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, নথিপত্র ও সাক্ষ্য পর্যালোচনায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। আবগারি নীতি তৈরির আগে একাধিক স্তরে আলোচনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তারা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে। ফলে আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ না হলেও, আপাতত বড় স্বস্তি মিলল কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়ার শিবিরে।





