দু’পক্ষের মধ্যে কড়া ভাষণ আদানপ্রদান চলতেই থাকে। কেউই কাউকে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। যখনই সুযোগ আসে, দুজনে প্রত্যক্ষভাবেই একে অপরকে কটাক্ষ করতে বাদ রাখেন না। এবার বিহারের ভোট নিয়ে আলোচনা করার সময় সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসমেলিন-এর প্রধান আসাউদ্দিন ওয়াইসি বলেন যোগী আদিত্যনাথ নাকি তাকে ভয় পায়, তাকে নিয়েই সে সব সময় স্বপ্ন দেখে, তাই তার প্রতিটি বক্তব্যেই নাকি ওয়াইসির নাম উঠে আসে।
বিহারে ভোট আসন্ন। জোরকদমে চলছে প্রচার। এই বিষয়েই সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আসাউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, নীতিশ কুমার ও বিজেপির আমলে বিহারে কোনওরকমের উন্নতি হয়নি। তাই এই নিয়ে বিজেপি সরকার কোনওরকম মন্তব্য পেশ করতে পারেন না। এরপরই যোগী আদিত্যনাথকে শানিয়ে তিনি বলেন,”যোগীজি আমায় ভয় পান। বিহারে আসার পরেও উনি আমার সম্পর্কে কথা বলে গেছেন। উনি মনে হয় আমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। আমি শুধু ওনাকে এটাই বলতে চাই যে, উনি যদি আমাকে নিয়েই কথা বলতে চান, তাহলে বলতে পারেন। কিন্তু আমি পাকিস্তানকে নিয়ে এই দুই-দেশ নীতি মানি না”। তিনি আরও বলেন যে, “ওনার যদি কথা বলারই হয় তাহলে উনি হাথরাস নিয়ে কথা বলুন। কিন্তু না, তখন তিনি একদম চুপ। সবসময় এতো পাকিস্তানের নাম কেন?”।
ওয়াইসির এর মতে, আদিত্যনাথ যোগী শুধু রাম মন্দিরের কথাই তোলেন কারণ উনিও জানেন নীতিশ কুমার বিহারে কোনও উন্নতি করেনি। সেই দোষ ধামা চাপা দেওয়ার জন্যই তিনি বিষয়টিকে অন্য দিকে ঘোরাতে চান। যোগীর উপরে যে প্রায় ৩২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন, এ কোথাও নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট জানান দেন ওয়াইসির।
আসাউদ্দিন ওয়াইসির দল সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসমেলিন বিহার প্রদেশের চারটি জেলার ৫০টি সিটের জন্য ভোটের লড়াইয়ে সামিল হয়েছে। এর জন্য তার দল জোট বেঁধেছে উপেন্দ্র কুশওয়াহা পরিচালিত আরএলএসপি, মায়াবতীর দল বিএসপি ও দেবেন্দ্র যাদবের দল এসজিডিডি-এর সঙ্গে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বিহারের কিছু নির্বাচনী জনসভায় দাবী করেন যে, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ায় নাকি সবথেকে বেশি দুঃখ পেয়েছেন রাহুল গান্ধী ও আসাউদ্দিন ওয়াইসি। এই প্রসঙ্গ টেনে ওয়াইসির যোগীর দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন যে উনি যদি প্রকৃত যোগী হয়ে থাকেন, তাহলে প্রমাণ করে দেখান যে ওয়াইসির পাকিস্তানকে সমর্থন করেন।





