বাঙালি পরিচয় কি এখন সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে? দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে যাওয়া বাংলা থেকে যাওয়া শ্রমিকদের বারবার যে চেহারায় অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে, তাতে এমন প্রশ্ন উঠে আসা অস্বাভাবিক নয়। রাজ্য থেকে বহু মানুষ জীবিকার খোঁজে দিল্লি, মহারাষ্ট্র কিংবা চেন্নাইয়ের মতো শহরে যান। কিন্তু কাজের বদলে সেখানে যদি তাঁদের মুখোমুখি হতে হয় পুলিশি নিপীড়নের, তবে তা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সামিরুল ইসলাম নামের রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদের একটি ভিডিও পোস্ট ঘিরে ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে এই ইস্যু। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দিল্লিতে কাজ করতে যাওয়া বীরভূমের বাসিন্দা দু’জন মহিলা ও তাঁদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিশুকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এক মহিলাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, “আমরা আধার কার্ড দেখিয়েছি। বলেছি আমরা বাংলাদেশি নই। তবু দিল্লি পুলিশ বলছে, তোদের বাংলাদেশি বানিয়ে দেব।” ওই মহিলার অভিযোগ, তাঁদের পুলিশ মারধর করেছে, জোর করে ছবি তুলেছে, এমনকি মেডিক্যাল পরীক্ষাও করিয়েছে।
এই ভিডিও পোস্ট করে শুধু পরিস্থিতির অভিযোগ তোলেননি সাংসদ সামিরুল ইসলাম, বরং সরাসরি কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীকেও। তাঁর প্রশ্ন, “যখন বিজেপি নেতারা বাঙালিকে রোহিঙ্গা বলে অপমান করেন, তখন কীভাবে বাঙালির উন্নয়ন সম্ভব?” শনিবারই সামিরুল অভিযোগ করেছিলেন, মহারাষ্ট্রে মতুয়া সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছে। একদিন না কাটতেই ফের দিল্লিতে এই নতুন ভিডিও তৃণমূল সাংসদের পোস্ট করা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
শুধু দিল্লিই নয়, একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে চেন্নাই থেকেও। মুর্শিদাবাদ থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধেও চেন্নাইয়ে হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে। একাধিক স্থানে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ এই ৩ রাশির উপর চলছে শনির সাড়ে সাতি! কবে মিলবে মুক্তি এই দুশ্চিন্তা থেকে? জেনে নিন বিশদে
এই ঘটনাগুলোর মাঝে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দুর্গাপুরের সভা থেকে দাবি করেছিলেন, “বাঙালির গর্ব বিজেপির হাতেই সুরক্ষিত”। কিন্তু বাস্তব ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। রাজ্যের বাইরে বাঙালি শ্রমিকদের উপর এই ধরনের আচরণ কি সত্যিই অস্মিতা রক্ষা করছে? না কি রাজনৈতিক স্বার্থেই চলছে পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন ও নিপীড়ন? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজছে গোটা বাংলা।





