বাম ও কংগ্রেসের তরফে তালিবানদের ভরপুর সমর্থন করা হচ্ছে, দাবী বিজেপি নেতার

মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলি সমানে তালিবানদের সমর্থন করে চলেছে, এমন বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন কেরলের বিজেপি সভাপতি কে সুরেন্দ্রন। তালিবান আফগানিস্তান দখলের পর থেকেই তাদের প্রতি সমর্থন দেখাচ্ছে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল, এমনটাও দাবী বিজেপি নেতার।

বাম ও কংগ্রেসের তরফে তালিবানদের ভরপুর সমর্থন করা হচ্ছে, দাবী বিজেপি নেতার

গতকাল, শনিবার বাম ও কংগ্রেসকে শানিয়ে তিনি অভিযোগ আনেন যে কেরলে ক্ষমতায় থাকা সিপিএম ও বিরোধী দল কংগ্রেস এক অন্য ধরণের রাজনীতি চালাচ্ছে। তালিবান আফগানিস্তান দখলের পর থেকেই রাজনীতির খেলা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন- ফের পঞ্জশীরে মাসুদ বাহিনীর কাছে পর্যুদস্ত হল তালিবান, প্রতিরোধ বাহিনীর পাল্টা জবাবে শেষ ৭০০ জেহাদি

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “কেরলের মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলি তালিবানকে সমর্থন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর রাজ্যের রাজনৈতিক নেতারা ধর্মীয় চরমপন্থায় ক্রমশ মদত দিয়ে চলেছে”। বিজেপির দাবী কট্টরপন্থী শক্তি যখন মাথাচাড়া দিচ্ছে, কেরলে বামেরা তখন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার মতো কাজ করে যাচ্ছে। কে সুরেন্দ্রন একথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে সম্প্রতি একদল কাশ্মীরি যুবকের থেকে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

সম্প্রতি আবার কেরলে মোপলা বিদ্রোহ নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। এ দিন ই প্রসঙ্গও তোলেন সুরেন্দ্রন। ১৯২১ সালে যে মালাবার রিবেলিয়ন বা মোপলা বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়েছিল সেই প্রসঙ্গ ফের নতুন করে উঠে এসেছে। ওই বিদ্রোহীরা কি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল? নাকি এটা একটা ধর্মীয় অশান্তি ছিল? এই নিয়েই বেঁধেছে বিতর্ক।

তবে কেরলের সিপিএম দাবী, ওই মোপলা বিদ্রোহীরাই সবথেকে সুসংগঠিতভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল। অন্যদিকে, কংগ্রেসেরও মত সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এক উজ্জ্বল প্রতিবাদ ছিল এই মোপলা বিদ্রোহ। কিন্তু এই বিদ্রোহকে মানতে মোটেই রাজী নয় বিজেপি ও আরএসএস। তাদের দাবী ওই সময় থেকেই প্রথম ভারতে তালিবান মানসিকতার সূত্রপাত হয়েছিল। এই কারণে মোপলা বিদ্রোহ স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশ হিসেবে বর্ণনা করতে নারাজ গেরুয়া শিবির।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাবুল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে মারা যায় শতাধিক মানুষ। এই বিস্ফোরণে কেরল যোগ সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ইসলামিক স্টেট খোরাসনের সদস্য যারা এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, এমন ১৪ জনের আদি বাড়ি হল কেরলে। সূত্রের খবর, তালিবানরা আফগানিস্তান দখলের সময় সমস্ত জেল থেকে বেশ কয়েকজন বন্দিকে মুক্ত করে দেয়। সেই সঙ্গেই অন্যান্যদের সঙ্গে বেরিয়ে আসে ওই ১৪ জন আইএএস জঙ্গি। তাদের সকলেরই বাড়ি কেরলে।

আরও পড়ুন- ‘গরু ছাগল তো নয় যে আটকে রাখব’, ফুল বদলের রাজনীতি প্রসঙ্গে মন্তব্য দিলীপের

এই ১৪ জনের মধ্যে মাত্র একজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয় তারা। কেরলের মলপ্পুরম, কাসরগৌড়, ও কন্নর জেলা থেকে নানান যুবক ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে দেশ ছেড়ে পালায় বলে জানা গিয়েছে।

RELATED Articles