দিল্লি (Delhi) বিধানসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একদিকে আম আদমি পার্টি (AAP) তাদের শাসনকাল ধরে রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিজেপি (BJP) এই নির্বাচনে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে মরিয়া। আপের নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার বরাবরই শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করার দাবি করে ভোটারদের সমর্থন আদায় করেছে। তবে দিল্লির রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দাপট আপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দিল্লি লাগোয়া হরিয়ানার চণ্ডীগড় (Chandigarh) পুরনিগম নির্বাচনের ফল এক নতুন বিতর্ক উস্কে দিল।
চণ্ডীগড় মেয়র পদ দখলে বিজেপির সাফল্য
চণ্ডীগড় পুরনিগমের মেয়র নির্বাচন বরাবরই জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। এবারের মেয়র পদে বিজেপি প্রার্থী হরপ্রীত কৌর বাবলা এবং আপ প্রার্থী প্রেমলতার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটের ভোটে অংশ নেন ৩৫ জন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় সাংসদ। ভোট পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যদিও ভোটের আগেই বিজেপি এবং আপ-কংগ্রেস জোটের মধ্যে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিবাদ শুরু হয়েছিল।
৩৫ আসনের চণ্ডীগড় পুরনিগমে বিজেপির দখলে ছিল ১৬টি আসন। ভোটের ঠিক আগে কংগ্রেসের এক কাউন্সিলর যোগ দেন বিজেপিতে, যার ফলে বিজেপির কাউন্সিলর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭। আপের হাতে ছিল ১৩টি আসন এবং কংগ্রেসের ছিল ৬টি আসন। স্বাভাবিকভাবেই আপ-কংগ্রেস জোটের মোট ১৯টি ভোট পাওয়ার কথা ছিল, যেখানে বিজেপির পাওয়ার কথা ছিল ১৭টি। তবে ভোটের ফলাফল চমকপ্রদভাবে উল্টো হয়ে যায়। বিজেপি ১৯টি ভোট পায় এবং আপ-কংগ্রেস জোট পায় ১৭টি। অর্থাৎ একাধিক কাউন্সিলর ‘ক্রস ভোটিং’ করেছেন, যা চণ্ডীগড় মেয়র নির্বাচনে বিজেপির জয় নিশ্চিত করে।
আদালতের পর্যবেক্ষণেও বিতর্কিত ফলাফল
এই নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল আরও বেশি, কারণ সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আদালতের নজরদারির কারণে কোনো বেনিয়মের অভিযোগ আনার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ক্রস ভোটিংয়ের কারণে আপ এবং কংগ্রেসকে এখন দলের ভেতরের বিভেদ এবং বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আপ নেতারা জানিয়েছেন, দলের কাউন্সিলরদের এই আচরণ বিশ্বাসঘাতকতার সমান এবং এর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লীগ কি ফিরছে? ১৮ ফেব্রুয়ারিতে দেশজুড়ে ধর্মঘটের চ্যালেঞ্জ!
দিল্লি নির্বাচনের আগে আপের জন্য বড় ধাক্কা
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে চণ্ডীগড়ের মেয়র পদে বিজেপির এই সাফল্য আম আদমি পার্টির জন্য একটি বড় ধাক্কা। আপ-কংগ্রেস জোটের পরাজয় শুধু ক্রস ভোটিংয়ের কারণেই হয়নি, বরং এটি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটকেও ইঙ্গিত করে। বিজেপি এই সাফল্যকে তাদের সংগঠনের শক্তি এবং নেতৃত্বের কার্যকারিতা হিসেবে প্রচার করছে। দিল্লির ভোটাররা এই ফলাফল কীভাবে গ্রহণ করবে, তা এখন রাজনীতির মূল প্রশ্ন।





