পশ্চিমবঙ্গের (west bengal) শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে নানা সময়ে নানা বিতর্ক উঠেছে। কখনও কলেজে ছাত্ররাজনীতি, কখনও বহিরাগতদের তাণ্ডব, আবার কখনও পড়ুয়াদের উপর আক্রমণের অভিযোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় রাজনীতির প্রবেশ বারবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। অথচ এই জায়গাগুলোই হওয়া উচিত ছিল সৃজনশীলতা ও জ্ঞানচর্চার পীঠস্থান। রাজ্য সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা বললেও, অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতি সেই উন্নয়নের বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হল কলকাতার এক ঐতিহ্যবাহী কলেজ, যা সরাসরি জড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে।
কলকাতার যোগেশ চন্দ্র চৌধুরি ল কলেজে সরস্বতী পুজো ঘিরে উঠেছে বিতর্ক। অভিযোগ, কলেজের সরস্বতী পুজোয় বাধা দেওয়া হচ্ছে। আর এই অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতার দিকে। অভিযুক্ত নেতার নাম সাব্বির আলি। কলেজের পড়ুয়াদের অভিযোগ, সরস্বতী পুজো করতে চাইলে তাদের মারধর ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাজে ভাষায় কথা বলার অভিযোগও উঠেছে। পড়ুয়ারা এ বিষয়ে চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায়ের কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায় জানিয়েছেন, সাব্বির আলির বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “গত বছর কলেজে ঢুকতে গিয়ে আমায় হেনস্থা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র রাজনীতির নয়, অর্থনীতির বিষয়। টাকা না দিলে কলেজে সমস্যা তৈরি করে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।” পঙ্কজবাবু আরও জানান, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতরা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, সাব্বির আলি এবং তার দলবল সরস্বতী পুজো বন্ধ করার জন্য ভয় দেখাচ্ছে। এক পড়ুয়া বলেন, “বাইরের কিছু লোকজন এসে আমাদের সরস্বতী পুজো বন্ধ করতে বলে। তাদের দাবি, পুজো করলে আমাদের মেরে ফেলা হবে। এমনকি ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়। এরা পুরোপুরি তোলাবাজ।” আর এক পড়ুয়া বলেন, “সরস্বতী পুজো করা আমাদের অধিকার। তবুও কেন এমন বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে?”
আরও পড়ুনঃ আদালতের নজরদারিতেও ক্রস ভোটিং! চণ্ডীগড় মেয়র পদে বিজেপির চমকপ্রদ জয়!
অভিযুক্ত সাব্বির আলির বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের তরফে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাব্বির আলির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের নীরবতাও প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষাঙ্গনের এই অবস্থার দায় কার? পড়ুয়াদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।





