ভালোবাসা অনেক সময় আশ্রয়, আবার কোনও কোনও সময় আশঙ্কার জন্ম দেয়। একসময় যে সম্পর্ক ছিল দুই তরুণ-তরুণীর মধ্যে, তা পরিণত হল এক হাড় হিম করা ঘটনার উৎসে। ক্লাসে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন এক তরুণী, আর ফিরে আসেননি। ফোনে বাড়ি ফেরার আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টা পর, পরিবারের কাছে আসে চরম দুঃসংবাদ—তাঁর মেয়ে আর বেঁচে নেই!
রাজধানী দিল্লিতে ঘটেছে এই ঘটনা। খু*ন হওয়া তরুণীর নাম মেহক জৈন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওপেন লার্নিং-এর ছাত্রী। অভিযুক্ত যুবকের নাম অর্শকৃত। দু’জনের বয়সই ১৮ বছর। পরিবার থেকে সম্পর্কের বিরুদ্ধে মত পাওয়ার পর, মেহক ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি অর্শকৃত। তার মধ্যে জন্ম নেয় রাগ, ক্ষোভ আর প্রতিশোধস্পৃহা।
বারবার বিরক্ত করার পরে, ঘটনার দিন অর্শকৃত ফোন করে মেহককে দেখা করতে বলে। পুরনো বন্ধুত্বের বিশ্বাসে, মেহক রাজি হন। কিন্তু নির্জন পার্কে পৌঁছতেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। অভিযোগ, সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল অর্শকৃত। ছুরি দিয়ে একের পর এক কোপ মারতে থাকে মেহকের শরীরে। শুধু তাই নয়, পরে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে এবং মৃতদেহ পু*ড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও চালায়, যাতে কোনও প্রমাণ না থাকে।
সকালে ক্লাসের নাম করে বেরিয়েছিলেন মেহক। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। প্রথমে একবার ফোনে উত্তর দেন মেহক, জানান, তাড়াতাড়ি ফিরবেন। কিন্তু তারপর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। খোঁজ শুরু হয়, এরপর পুলিশের কাছ থেকে খবর আসে—একটি দে*হ উদ্ধার হয়েছে পার্ক এলাকা থেকে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের উপর ভেঙে পড়ে মৃত্যু সংবাদ।
আরও পড়ুনঃ Covid update : অসাবধান হলেই বিপদ, ফের ছড়াচ্ছে করোনা! বাংলায় ৩৭২ জন আক্রান্ত, নতুন উপসর্গে আতঙ্ক বাড়ছে রাজ্যে!
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুতই গ্রে*প্তার করে অর্শকৃতকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই সে স্বীকার করে—প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কারণেই সে এই পথ বেছে নিয়েছে। নিজের কাজের কোনও অনুশোচনাও সে প্রকাশ করেনি। বর্তমানে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা, উঠছে প্রশ্ন—সম্পর্কে না বলার অধিকার কি আজও সমাজে নিরাপদ?






