নিঃসন্তান বোনের কোল ভরাতে অন্য মায়ের কোল খালি করল দাদা, ভয়ংকর পরিণতি….

বিয়ের পর সন্তান হওয়া নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। এমনকি বাচ্চা না হলে মেয়েকে অনেক কথা শুনতে হয়। এখনকার দিনে বেশিরভাগ লোকই ডাক্তার দেখান। তবে আধুনিক যুগে এমন অনেক মানুষই আছেন যারা ওঝার কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার, ওঝা-সবই দেখিয়েও, সন্তান হয়নি। তা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে প্রতিদিন গঞ্জনা শুনতে হয়। মেয়ের বাপের বাড়ির লোকের এই সমস্যায় ঘুম উড়েছে। রোজ রোজ শ্বশুরবাড়ির এই গঞ্জনা সহ্য হয় না মেয়ের দাদার। তাই বোনের পরিবারে শান্তি ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিল দাদা। 

বোনের জন্য চরম সিদ্ধান্ত নিল দাদা। অন্য কারোর কোল খালি করে দিতেও পিছপা হলেন না সেই দাদা। এক মুহূর্ত ভাবলেন না কী হতে পারে। কতদিন অপরাধ ঢাকা থাকবে। যদিও অপরাধ ঢেকে রাখা যায় না। সেই অপরাধ ঢাকা থাকল না বেশিদিন, এক মাসের মধ্যে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ব্যক্তি। অবশেষে বুধবার গ্রেফতার হলেন ওই ব্যক্তি। বোনের জন্য এমন কি করেছিলেন তিনি যার জন্য গ্রেফতার করতে হল তাকে।

ধর্মপাল নামক বছর পয়তাল্লিশের ব্যক্তি গত ফেব্রুয়ারি মাসে আড়াই বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে। তাঁর দাবি, সন্তান না হওয়ায় তাঁর বোনকে শ্বশুরবাড়িতে গঞ্জনা শুনতে হয়। সেই অপমান থেকে মুক্তি দিতেই ওই শিশুকে অপহরণ করেছিলেন তিনি। অপহৃত ওই শিশুকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাঁর বোন। ‌তখনই হয়ে যায় মহা সমস্যা। যার জন্য চুরি করেছিল সেই নিতে অস্বীকার করেছে। সেই মুহূর্তে কি করবে ভেবে পাইনি ধর্মপাল। শিশুটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার কোন উপায় ছিল না আর। তাহলে তখনই ধরা পড়তে পারত। সবদিক ভেবে শিশুটিকে নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন ধর্মপাল। শিশুটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে না পেরে, বাধ্য হয়ে নিজেই প্রতিপালন করতে শুরু করেন।

এই ঘটনাটি ঘটেছে গুরুগ্রামে। জানা গিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ধর্মপাল ওরফে রাবণ রাম বিহার কলোনি থেকে আড়াই বছরের একটি শিশুকে অপহরণ করে। গারহি গ্রামের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি শিশুটিকে নিয়ে তাঁর বোনকে দিতে যায়। তাঁর বোন শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে, নিজের বাড়িতেই শিশুটিকে রেখে দেন ওই ব্যক্তি। তাঁর নিজেরও দুই সন্তান রয়েছে। এই শিশুটিকেও নিজের সন্তানের মতো করেই বড় করছিলেন তিনি। অপহরণ করা শিশুটি র প্রতি কোন বাজে ব্যবহার করেননি তিনি যথেষ্ট লালন পালনের মাধ্যমেই বড় করছিল তাকে। নিজের সন্তানের মত আগলে রেখেছিল অপহৃত ওই শিশুকে।

গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পুলিশ তন্নতন্ন করে ওই অপহৃত শিশুর খোঁজ করছিল। অবশেষে গারহি গ্রামে ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে গুরুগ্রাম পুলিশের অপহরণ ও মানব পাচার প্রতিরোধ শাখা। অপহৃত শিশুটিকে তাঁর মা-বাবার কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ওই ব্যক্তিকে। বুধবার আদালতে তাঁকে পেশ করা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।

RELATED Articles