Canara Bank Beef Ban Protest : কানাড়া ব্যাঙ্কে গরুর মাংস নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে হুলস্থূল, কর্মীদের বিফ-পরোটা বিক্ষোভে চাঞ্চল্য!

খাবারের সঙ্গে মানুষের আবেগ গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে এমন কিছু পদ রয়েছে, যা শুধুমাত্র আনন্দ নয়, বরং এক একটি অঞ্চলের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। সেই খাবার যদি হঠাৎ করেই কোনও প্রতিষ্ঠানের ভিতরে নিষিদ্ধ করা হয়, তবে প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় সেটাই যেন নতুন করে প্রমাণিত হল। অফিস ক্যান্টিনে পরিবেশিত এক জনপ্রিয় খাবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মীদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়, আর তার জেরে এক অভিনব প্রতিবাদের সাক্ষী হলেন অনেকে।

ঘটনার সূত্রপাত এক আঞ্চলিক ম্যানেজারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ক্যান্টিনে নির্দিষ্ট একটি পদ পরিবেশন না করার নির্দেশ দেন। কর্মীরা দাবি করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা আসলে শুধু খাবার নিয়ে নয়, বরং ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপরে হস্তক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে চলা অসন্তোষ এর ফলে নতুন মাত্রা পায়। শুরু হয় বিক্ষোভের প্রস্তুতি। ধীরে ধীরে সেই প্রতিবাদ কেবল অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, প্রকাশ্যে এসে পড়ে।

কেরলের কোচির কানাড়া ব্যাঙ্কের এক শাখায় এই ঘটনাটি ঘটে। ক্যান্টিনে গরুর মাংস পরিবেশন বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। আর তারপরই ক্ষুব্ধ কর্মীরা সরাসরি ক্যান্টিনের বাইরে বসে গরুর মাংস ও মালাবার পরোটা পরিবেশন করে বিক্ষোভে সামিল হন। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয় ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (BEFI)। সংগঠনের নেতা এস এস অনিল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “খাদ্যাভ্যাস একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কাউকে গরুর মাংস খেতে বাধ্য করছি না, কিন্তু আমাদের খাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।”

কেরলে মালাবার পরোটা ও বিফ ফ্রাই শুধু খাবার নয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অঙ্গ হিসেবেও ধরা হয়। তাই এই পদকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা মানুষের আবেগে সরাসরি আঘাত করে। প্রতিবাদের জেরে রাজনৈতিক মহলও সরব হয়। বাম সমর্থিত স্বতন্ত্র বিধায়ক কে টি জলিল কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন, “কেরলে কোনওভাবেই সঙ্ঘ পরিবার বা হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা চাপানো যাবে না।” তাঁর বক্তব্য, কী খাবেন, কী পরবেন বা কীভাবে জীবনযাপন করবেন—এ সব নির্ধারণ করার অধিকার কোনও কর্তৃপক্ষের নেই।

আরও পড়ুনঃ Marriage Scam: প্রেম তারপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি! সহবাসের পর লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ যুবক রতন রাজবংশীর বিরুদ্ধে!

অতীতেও এরকম নজির রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের পশু বিক্রির নির্দেশিকার বিরোধিতা করে কেরলে ‘বিফ ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই নতুন এই ঘটনার পর ফের একবার ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্ন সামনে উঠে এসেছে। এখন নজর রয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কীভাবে এই টানাপোড়েন সামাল দেয়, আর কর্মীরা তাঁদের দাবিতে কতটা অটল থাকেন। এক কথায়, অফিস ক্যান্টিনের এই ঘটনাই আজ বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles