করোনা ভাইরাসের জেরে ২৫ শে মার্চ থেকে দফায় দফায় দেশব্যাপী লকডাউন চলছে। এই লকডাউনের জেরে ভিন্ন রাজ্যে কর্মরত শ্রমিক, ছাত্র এবং পর্যটকরা সেখানেই আটকে পড়েছেন। কেন্দ্রের তরফে তাদের নিজ রাজ্যে ফেরার অনুমতি জোটেনি। কিন্তু এবার করোনা সংক্রমণ বা উপস্বর্গ নেই এমন পরিযায়ী শ্রমিক, ছাত্র ও পর্যটকদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দিল কেন্দ্র। সংক্রমণ নেই এমন শ্রমিকরা যাতে বাড়ি ফিরতে পারেন সেই বিষয়ে একাধিক পিটিশনের শুনানিতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
ইতিমধ্যেই হরিয়ানা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের উত্তরপ্রদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তাই এখনও অবধি ১২,০০০ শ্রমিককে নিজের রাজ্যে ফিরিয়েছে উত্তরপ্রদেশ।
এই লকডাউনে বন্ধ হয়েছে কারখানা। টান পড়েছে রুজি রোজগারে। বাড়ি ভাড়া বাকি থাকায় কত মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছে এই সংকটের সময়। অনেকে হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টাতে নিজের প্রাণ ত্যাগ করেছে। এই সময় তারা শুধু সরকারের কাছে একটাই অনুরোধ করেছে, তাদের যেন নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সংক্রমনের ভয় সেই ঝুঁকি নিতে চায়নি সরকার। এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সরকারদের, তাদের বাসিন্দাদের নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে নিতে পারে, তবে তার আগে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। তাতে যদি তারা করোনামুক্ত হয় তবেই সেখান থেকে যাওয়ার অনুমতি পাবেন নচেৎ নয়।
এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও, রাজ্য সরকারগুলি বিশেষ কিছু বাসের ব্যবস্থা করবে, যেগুলিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্ব। বাড়ি পৌঁছানোর পর প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে দুই সপ্তাহ হোম কোয়ারেন্টাইনে কড়া নজরদারিতে থাকতে হবে। তবে যে রাজ্যগুলিতে করোনা পরিস্থিতি বেশি সংকটজনক সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের প্রশাসন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে রাজস্থানের কোটাতে আটকে থাকা প্রায় ১০০০ জন শিক্ষার্থীদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





