বিগত কয়েকদিন ধরেই সারা দেশে চলছিল তীব্র তাপপ্রবাহ। এই তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে পোল্ট্রি খামারগুলিতে। অতিরিক্ত গরমে চরম তাপমাত্রায় খামারগুলিতে মুরগি (Chicken) বাঁচিয়ে রাখা এখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপর ঘন ঘন লোডশেডিং, পোল্ট্রি মালিকদের জন্য তীব্র গরম যেন অশনি সংকেত নিয়ে এসেছে।
এই তীব্র গরমে প্রতিদিনই হিটট্রোকে মারা যাচ্ছিল বেশ কয়েক পোল্ট্রি মুরগি। এই গরমে পোল্ট্রি মুরগিদের বিভিন্ন রোগ দেখা যাচ্ছে। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা মুরগীদের। কমতে শুরু করেছে মুরগীদের (Chicken) ওজন। ব্যাহত হয়েছে ডিমের উৎপাদন। এসব নিয়ে মাথায় হাত পোল্ট্রি মালিকদের। একসঙ্গে মাংস ও ডিমের উৎপাদন কমতে শুরু করায় বাজারের দাম বাড়ছে চড়চড়িয়ে।
এই তীব্র গরমে মুরগিকে (Chicken) বাঁচিয়ে রাখতে মুরগীদের ওপর জল স্প্রে করা হচ্ছে। খামারের ছাদে বা চালে ঝর্ণা পদ্ধতিতে জল দেওয়া হচ্ছে মুরগিদের বাঁচিয়ে রাখতে। পোল্ট্রি মালিকরা আরো নানান পদ্ধতিতে মুরগিগুলিকে (Chicken) বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। মুরগিকে বাঁচাতে গিয়ে খরচ বেড়েছে কয়েকশো গুণ। ফলে খরচের কারণে ডিম ও মাংসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলকাতাতে ও মুরগির (Chicken) দাম আকাশ ছোঁয়া। রবিবার কলকাতার বিভিন্ন বাজারে গড়ে মুরগির দাম গিয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা করে।
মুরগির (Chicken) খামারিরা বলছেন, “আমরা সব কিছু নিয়েই বিপাকে পড়েছি। মুরগির ব্যবসায় আর কোনও সম্ভাবনাই দেখছি না। উল্টে কয়েকগুণ বেশি খরচ হচ্ছে, ক্ষতিও হচ্ছে। প্রতিদিনই মারা পড়ছে শত শত মুরগি (Chicken)। ডিমেরও উৎপাদন নেই। পরিত্রাণেরও কোনো উপায় দেখছি না।”
পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, “এবার বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন খামারিরা। একের পর এক মুরগি মরছে। কোনও ভাবেই টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পেতে হলে খামারের পাশে গাছ রোপণের পরামর্শ দিচ্ছে প্রাণীসম্পদ বিভাগ।” অতিরিক্ত জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা বলেছেন, “এই চলতি তাপপ্রবাহে প্রায় সাত হাজার মুরগি (Chicken) হিটস্ট্রোকে মারা গিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে খামারিদের হাতে গাছ রোপণ ছাড়া অন্য বিকল্প নেই। ছায়াযুক্ত স্থানে খামার করলে মিলবে সমাধান।”





