ফের বিপত্তি জগন্নাথধামে! পুরীর বলরাম ও সুভদ্রার রথের চাকায় দেখা দিল ফাটল, বড় কোনও অশুভ ইঙ্গিত?

একের পর এক বিপত্তি যেন লেগেই রয়েছে পুরীর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে। কিছুদিন আগেই গুণ্ডিচা মন্দিরে উনুন ভাঙচুর। আর এবার বলরাম ও সুভদ্রার রথের চাকায় দেখা দিল ফাটল। রথযাত্রার উৎসব চলাকালীন এমন সব ঘটনায় অশুভ ইঙ্গিত পাচ্ছেন পূণ্যার্থীরা। এমন ঘটনায় পুরীর মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

পুরীর মন্দির কমিটি সূত্রে খবর, আজ, মঙ্গলবার রথযাত্রা উৎসবের দক্ষিণা মোদা রীতি পালিত হওয়ার কথা। এর আগে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার রথ তিনটি পর্যবেক্ষণ করছিলেন মন্দিরের সেবায়েতরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবায়েতদের নজরেই রথের ফাটল প্রথম চোখে পড়ে। জানা গিয়েছে, ভগবান বলরামে রথ ‘তালধ্বজ’ এবং দেবী সুভদ্রার রথ ‘দর্পদলনা’-তে হালকা চিড় ধরেছে।

এই ঘটনা চোখে পড়ার পরই মন্দির চত্বরে তলব করা হয় পর্যবেক্ষণ দলকে। পর্যবেক্ষণ দলের সদস্যরা জানান যে বলরামের ‘তালধব্জ’ রথের ‘পিডিনাহাকা’ ও সুভদ্রার ‘দর্পদলনা’ রথের ‘বদাউচুলা’ চাকায় ফাটল দেখা গিয়েছে। এই ফাটল মেরামতির জন্য ওই দু’টি রথেই লোহার পাত বসানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

রথযাত্রার আগেই ভগবান জগন্নাথের রথ ‘নান্দীঘোষ’ রথের চাকাতেও ত্রুটি পাওয়া গিয়েছিল। রাতারাতি সেই চাকা বদল করা হয়। সেখানেও আয়রন ক্ল্যাম্পের ব্যবহার করা হয় রাতভর কাজ করে রথের চাকা মেরামত করেন ইঞ্জিনিয়াররা।

উল্লেখ্য, রথযাত্রার পরদিনই পুরীর মন্দিরে বিপত্তি ঘটে। রথযাত্রার দিন রাতে পুরীর গুণ্ডিচা মন্দিরে হামলা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় প্রায় ২০টি উনুন। রথযাত্রার দিন রাতে কেউ বা কারা মন্দিরে ঢুকে এই কাণ্ড করে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় ভক্তদের মধ্যে।

 আর এবার বলরাম ও সুভদ্রার চাকায় ফাটল। পরপর এমন নানান ঘটনার জেরে আশঙ্কা জন্মেছে পূণ্যার্থীদের মনে। বড়সড় কোনও অমঙ্গলের আঁচ করছেন অনেকে। পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে এই গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলে রাখি, গত শুক্রবার রথযাত্রার দিন পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুণ্ডিচা মন্দিরে গিয়েছেন প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। উল্টোরথ পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন তিন ভাই-বোন।

RELATED Articles