আজব কান্ড বটে! অপহৃত হলো কুমির! উঠলো ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবি!

ভারতবর্ষে,(India) সব সম্ভব! মানুষের পর এবার কুমির‌ও অপহৃত হলো দেশে। আর তাই নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ালো উত্তরপ্রদেশের(Uttar Pradesh) প্রত্যন্ত গ্রাম মিদানিয়াতে (Madhaniyan)। যোগী রাজ্যের সংরক্ষিত অরণ্য লাগোয়া এই গ্রাম। আর আজ এই প্রত্যন্ত গ্রামের ভিতরে‌ই একটি পুকুরে দেখা মেলে একটি কুমিরের(Crocodile)।

করোনা আবহেই কুমির দেখতে ভিড় জমে যায় গ্রামে। এ পর গ্রামবাসীদের তরফেই খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরে(Forest department)। আর এরপরই শুরু হয় আসল ঝামেলা। বন দপ্তরের কর্মীরা কুমিরটিকে উদ্ধার করতে এলে, কুমিরটির বিনিময়ে গ্রামবাসীরা(villagers) ৫০ হাজার টাকা(50000 rupees) দাবি করেন।

হাতে ৫০ হাজার পেলে তবেই ছাড় মিলবে কুমিরের। গ্রামবাসীদের এমন অদ্ভুত দাবিতে হকচকিয়ে যান বন কর্মীরা। এই ঘটনায় নিকটবর্তী দুধাওয়া ব্যাঘ্র সংরকক্ষণ (Dudhawa tiger conservation)প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় বনবিভাগের আধিকারিক অনিল প্যাটেল(Anil Patel) জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীরাই কুমিরটিকে ধরেন৷ এরপর খবর পেয়ে বন দপ্তরের কর্মীরা প্রাণীটিকে উদ্ধার করতে গেলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

বনকর্মীদের বোঝানোতে‌ও মন গলেনি গ্রামবাসীদের। অবশেষে ডাক পড়ে আঞ্চলিক পুলিশ প্রশাসনের। স্থানীয় পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় কুমিরটিকে শেষপর্যন্ত উদ্ধার করা যায়।উদ্ধারের পর 8 ফুট দৈর্ঘ্যের কুমিরটিকে ওই দিনই ঘাগরা নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। বনকর্মীদের মতে, গত মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যা হয়, তার জন্য সংরক্ষিত অঞ্চল থেকে কুমিরটি গ্রামে ঢুকে পড়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে টাকার দাবিতে অনড় গ্রামবাসীদের আইনি পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে বলা হয়, এই অপরাধের জন্য তাদের ৭ বছর পর্যন্ত হাজতবাস হতে পারে। অনিল প্যাটেলের কথায়, ‘গ্রামবাসীদের আসলে ধারণাই নেই যে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কুমির একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। আমাদেরই উচিত বন্যপ্রাণ সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তোলা।’

RELATED Articles

Leave a Comment