নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও অনেকবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ভারতীয় রেলকে। এবার নিরাপত্তায় গাফিলতির কারণে বড়সড় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হল রেলকে। এর পাশাপাশি যাত্রী ও যাত্রীদের মালপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হল চণ্ডীগড় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের তরফে।
পাঁচ বছর পুরনো এক মামলার প্রেক্ষিতে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত জানায় যে ট্রেনের যাত্রীদের পাশাপাশি তাদের জিনিসপত্রও যাতে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছয়, সেই দায়িত্ব রেলের। আদালতের তরফে এও বলা হয়েছে যে ট্রেনে জিআরপি ও আরপিএফ ও বৈধ যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে উঠতে দেওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে যোগাযোগ ক্রান্তি এক্সপ্রেসে এক দম্পতির টাকা লুঠের অভিযোগ ওঠে। রেলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগ করে, তারা। ক্ষতিপূরণের দাবী নিয়ে দ্বারস্থ হন ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে। সেই মামলার রায় দিতে গিয়েই ওই নির্দেশ দিয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত। এর পাশাপাশি রেলকে ওই দম্পতিকে ১.৫৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
সূত্রের খবর, ২০১৮ সালে যোগাযোগ ক্রান্তি এক্সপ্রেসে চণ্ডীগড় থেকে নয়াদিল্লি যাচ্ছিলেন রাম বীর ও তাঁর স্ত্রী মমতা ভার্মা। অভিযোগ, ট্রেন চণ্ডীগড় স্টেশন ছাড়ার সময়ই বৈধ টিকিট ছাড়াই সংরক্ষিত কামড়ায় ওঠেন কিছু ব্যক্তি। ট্রেনটি আম্বালা ক্যান্টনমেন্টে থামলে আরও বেশ কিছু লোকজন সংরক্ষিত কামড়ায় ওঠেন।
বৈধ টিকিট ছাড়া সংরক্ষিত কামড়ায় উঠলেও, টিকিট পরীক্ষক কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। রাম বীর নামের ওই ব্যক্তি জানান যে ট্রেনটি আম্বালা ক্যান্টনমেন্ট ছাড়ার পরই একজন অপরিচিত তাঁর স্ত্রীর মানিব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকেই নেমে যান। ব্যাগে মোবাইল ফোন ছাড়াও নগদ সাড়ে নয় হাজার এবং কিছু দরকারি কাগজপত্র ছিল বলে জানান রাম বীর।
ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক এই বিষয়ে কোনও সাহায্য করেন নি বলে অভিযোগ। যাত্রী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে জিআরপি ও আরপিএফের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেও তা এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ট্রেন নয়াদিল্লি পৌঁছনোর পর জিআরপির কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর করেন ওই দম্পতি। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ তাও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।
শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের দাবী নিয়ে ওই দম্পতি দ্বারস্থ হন চণ্ডীগড়ের ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে। দম্পতির অভিযোগ প্রথমে অস্বীকার করে রেল। রেলের তরফে জানানো হয় যে কোথায় চুরি হয়েছিল, সেই সম্পর্কে জিআরপি-র কাছে কোনও অভিযোগ করা হয়নি। দীর্ঘদিন এই মামলা চলার পর অবশেষে রেলকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।





