ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে পাকিস্তানে বৈষম্যের মুখে পড়েছেন, এটা দানিশ কানেরিয়া বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন। কিন্তু বিতর্কের মধ্যেও নিজের দেশের প্রতি শ্রদ্ধা হারাননি প্রাক্তন পাক লেগ স্পিনার। তবুও তাঁর মনে ভারত নিয়ে আলাদা টান। সাম্প্রতিক নাগরিকত্ব বিতর্কে তিনি আবারও মুখ খুললেন। জানালেন, পাকিস্তান তাঁর জন্মভূমি হলেও, ভারত তাঁর মাতৃভূমি—যে দেশ তাঁর পূর্বপুরুষদের ভূমি, যে দেশের সঙ্গে তাঁর আবেগের গভীর সম্পর্ক।
এক দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কানেরিয়া নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। লেখেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন, আমি কেন পাকিস্তান নিয়ে কিছু বলি না, কেন ভারতের বিষয়ে কথা বলি? কেউ কেউ মনে করেন, আমি এসব বলি নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য। তাই এবার সত্যিটা পরিষ্কার করা দরকার।” এরপরই তিনি বলেন, “পাকিস্তান আমার জন্মভূমি (Janmabhoomi)। কিন্তু ভারত আমার মাতৃভূমি (Matrubhumi)। এ দেশ আমার পূর্বপুরুষদের দেশ, আমার কাছে ভারতের গুরুত্ব এক মন্দিরের মতো। তবে আমি এখনই ভারতীয় নাগরিকত্ব চাইছি না। ভবিষ্যতে কেউ যদি নাগরিকত্ব নিতে চায়, তাহলে সিএএ আছে—যারা নিপীড়নের শিকার, তাঁদের জন্য।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনার ঝড়। কেউ কানেরিয়ার প্রশংসা করছেন তাঁর নির্ভীক অবস্থানের জন্য, কেউ আবার কটাক্ষ করছেন ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে। অনেকে মনে করছেন, তাঁর বারবার ভারত প্রশংসা করা কোনও কৌশল নয়, বরং সত্যিই এক গভীর আবেগ থেকে উঠে আসা কথা। ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে দশ বছরের দীর্ঘ সময় কাটানোর পরও তিনি আজও নিজের বিশ্বাসে অনড়, সেটাই নেটিজেনদের চোখে তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।
পোস্টে কানেরিয়া নিজের ক্রিকেটজীবনের কথাও স্মরণ করেছেন। বলেছেন, “আমি সবসময় আমার দেশকে সম্মান করেছি, পাকিস্তানি ভক্তদের ভালোবাসাও পেয়েছি। কিন্তু কিছু অভিজ্ঞতা গভীরভাবে আহত করেছে। আমার ধর্মের কারণে যে বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়েছিল, সেটা লুকোনোর কিছু নেই।” তাঁর এই মন্তব্য ফের মনে করিয়ে দিল, কীভাবে পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত, বিশেষ করে প্রকাশ্য পরিচয়ে হিন্দু হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত হওয়ার পর।
আরও পড়ুনঃ DVC Flood Claim Latest Update: মমতার অভিযোগে ডিভিসি জল ছাড়ার সংখ্যা বেশি দেখানো হয়েছে? কেন্দ্র জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল জানালেন আসল পরিমাণ!
শেষে কানেরিয়া খুব শান্তভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দেন— “আমি কোনও দেশের বিরুদ্ধে নই, শুধু সত্যিটা বলেছি।” তাঁর এই সংযত অথচ স্পষ্ট বার্তা অনেককেই ভাবাচ্ছে। রাজনৈতিক না হয়েও এক সাবেক খেলোয়াড়ের বক্তব্য এতটা আলোড়ন তুলেছে, কারণ তাঁর কথায় মিশে আছে ব্যথা, গর্ব, আর এক অদ্ভুত টান—দুই দেশের মধ্যে ছিন্ন হলেও যে টান কখনও ছিঁড়ে যায় না।






