করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে জেরবার গোটা দেশ। একাধিক রাজ্যে দেখা দিয়েছে নানান সমস্যা। কোথাও হাসপাতালে বেড নেই তো কোথাও আবার নেই পর্যাপ্ত অক্সিজেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা বারবার জোর দিচ্ছেন টিকাকরণের উপর। এবার স্বনামধন্য চিকিৎসক দেবী শেট্টি দাবী করলেন যে ভারতের ৫১ কোটি মানুষকে যদি টিকা দেওয়া হয়, তাহলে অতিমারিকে রোধ করা সম্ভব হবে।
ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে মহামারী রোধ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল সবাইকে টিকা দেওয়া। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে সেটা করা ভারতের জন্য খুব একটা কঠিন কাজ নয়। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিখ্যাত এই চিকিৎসক এমনটাই দাবী করলেন। তাঁর কথায়, “আমাদের মেনে নিতে হবে ভারত অনেক বড় একটা দেশ, এর জনসংখ্যাও প্রচুর। কিন্তু আমাদের হাতে সবরকম ব্যবস্থাও রয়েছে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রত্যেককে আমাদের ভ্যাকসিন দিতে হবে”।
এদিকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে টিকাকরনে অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বাধ সেধেছে অন্য জায়গায়। নেই পর্যাপ্ত টিকা। এই কারণে একাধিক রাজ্যেই এখনও পর্যন্ত টিকাকরণ শুরুই হয়নি।
দেবী শেট্টির মতে, “ভারতের মতো দেশ, যার বার্ষিক গড় উৎপাদন ২০০ লক্ষ কোটি টাকা, সেখানে ৭০ হাজার কোটি টাকা কোনও ব্যাপারই নয়। উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গেই এই চুক্তি করা যায়। তাদের সঙ্গে দরদামও করতে পারে সরকার। সে ক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ৫১ কোটি মানুষের ভ্যাকসিনেশন সম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব”।
করোনা টাস্কফোর্সের সদস্য দেবী শেট্টির আরও বক্তব্য, “ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলেও অতিমারি রোধ করা অসাধ্য নয়। এখনও পর্যন্ত টিকাকরণই সেরা এবং সহজ সমাধান। তাই যত দ্রুত সম্ভব ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলের টিকাকরণ সম্পূর্ণ করে ফেলা দরকার”। তাঁর দাবী, “একদিন লকডাউন করলেই দেশকে ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সইতে হয়। সেদিক থেকে টিকাকরণে জোর দিলে ক্ষতির মুখে পড়তেই হবে না দেশকে”।






