শোভনদেবের সমর্থনে জমা পড়া নথিতেই জা’ল সইয়ের অভিযোগ! নয়না থেকে বাহরুলদের বাড়িতে CID হানা ঘিরে বাড়ছে চাপানউতোর, “সইটা কে করল?” তাহলে কি তৃণমূলের অন্দরের গোপন দ্ব’ন্দ্বই কি এবার প্রকাশ্যে চলে এল?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই এবার জাল সই বিতর্ক ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম সমর্থন করে যে রেজোলিউশন জমা পড়েছিল, সেই নথিতে থাকা কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, কয়েকটি সই আসল নয়। আর সেই অভিযোগের তদন্তেই বৃহস্পতিবার থেকে একের পর এক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছতে শুরু করেছে সিআইডি। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীদের সঙ্গে ছিলেন হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্টও। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহরুল ইসলাম, কুণাল ঘোষ, তাপস মাইতি থেকে শুরু করে চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও পৌঁছে যায় তদন্তকারী দল। ফলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

ঘটনার সূত্রপাত একটি দলীয় রেজোলিউশনকে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলনেতা পদে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে ৭০ জন বিধায়কের সই-সহ একটি প্রস্তাব জমা দেয় তৃণমূল। কিন্তু পরে সেই তালিকায় থাকা কয়েকজন বিধায়কই দাবি করেন, তাঁরা ওই নথিতে সই করেননি। তারপরই সামনে আসে জাল সইয়ের অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ। পরে হ্যান্ডরাইটিং পরীক্ষার প্রয়োজন হওয়ায় তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে। ইতিমধ্যেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে কয়েকজন বিধায়কের বক্তব্য। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এটি কোনও সরকারি বা বিধানসভার নথি ছিল না, বরং দলীয় কাগজ ছিল। তাঁর দাবি, দলের তরফে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কাগজে জায়গা না থাকায় তিনি সই করেননি বলেও দাবি করেন। তবে তিনি বুঝতে পারেননি যে সই না করলে তাঁর বাড়িতে সিআইডি পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহরুল ইসলামের বক্তব্য আরও বিস্ফোরক। তিনি সরাসরি বলেন, “আমি তো সই করিনি।” তাঁর দাবি, যেদিন সই করার কথা বলা হচ্ছে, সেদিন তিনি বাড়ি থেকেই বের হননি। এমনকি দল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে সইটা করল কে?”

এই বিতর্কে কুণাল ঘোষ এখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে তদন্তকারীরা তাঁর বাড়িতেও গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একইভাবে ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি এবং বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার কাছ থেকেও নমুনা সই সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীরা প্রত্যেকের বক্তব্য রেকর্ড করছেন এবং সইয়ের নমুনা খতিয়ে দেখছেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। শাসকদলের অন্দরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুনঃ ভারতে ব্ল’ক ককরোচ জনতা পার্টির X অ্যাকাউন্ট! আদালতে যেতেই বড় মন্তব্য দিল দিল্লি হাইকোর্ট, “কিছু কনটেন্ট আপত্তিকর” তাহলে কি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়াই বাড়াল বিত’র্ক?

যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব পুরো অভিযোগই অস্বীকার করেছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, গোটা বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা করার জন্য করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, বিধায়কদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও দাবি করেন, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সই করেছিলেন। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, “পুরো সরকারটাই ফেক ছিল।” এই মন্তব্য ঘিরেও নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এখন নজর সিআইডি তদন্তের দিকে। সত্যিই সই জাল করা হয়েছিল, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে সেই উত্তরই খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর