পরিবার মানেই আশ্রয়, স্নেহ আর নিরাপত্তার জায়গা। কিন্তু মাঝেমধ্যেই এমন কিছু ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে আসে যা মানবিক সম্পর্কের ভিত্তিকেই কাঁপিয়ে দেয়। সম্প্রতি রাজধানী দিল্লির এক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, যেখানে এক ছেলে নিজের মায়ের প্রতি যে নৃশংস আচরণ করেছে, তা সমাজকে হতবাক করে তুলেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লির হাউজ কাজি এলাকায় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার ৬৫ বছরের মায়ের উপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। অভিযোগ, বহু বছর আগে মায়ের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহ করত ওই ব্যক্তি। সেই সন্দেহের জেরেই মাকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার নামে নির্যাতন চালায় সে। মায়ের দাবি, ছেলেটি বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে, তাঁর ছোটবেলার কিছু ঘটনার জন্যই তিনি বিশ্বাসঘাতক। আর সেই রাগ থেকেই একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে ওই মহিলা তাঁর স্বামী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে একটি ধর্মীয় তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। বিদেশ থেকে যাত্রা চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত ছেলে ফোন করে বাবাকে জানায়, তাঁদের দ্রুত ফিরতে হবে কারণ সে চায় স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিক। কারণ হিসেবে পুরনো সম্পর্কের অভিযোগ তোলে সে। পরিবার ফিরতেই শুরু হয় ভয়াবহ কাণ্ড। প্রথমে মাকে আলাদা ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এমনকি বাবাকে বলা হয়, তিনি নাকি স্ত্রীকে নষ্ট করেছেন। ভয়ে বাড়ি ছেড়ে বড় মেয়ের কাছে চলে যান ওই মহিলা।
তবে এখানেই শেষ হয়নি ঘটনাটা। ১১ আগস্ট রাতে বাড়ি ফেরার পর আবারও মায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছেলে। পরিবারের অন্যদের জানিয়ে দেয় যে, সে মায়ের সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চায়। এরপরেই চলে অকথ্য নির্যাতন। মায়ের অভিযোগ, সেই রাতেই প্রথমবার ধর্ষণের শিকার হন তিনি। কিন্তু অপমান ও ভয়ে কাউকে কিছু জানাননি। কিছুদিন পর আবারও একইভাবে তাঁর উপর নির্যাতন চালায় ছেলে। এবার আর চুপ থাকেননি তিনি। ছোট মেয়েকে সব খুলে বলেন এবং তাঁর সঙ্গেই থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও পড়ুনঃ Weather: আগামী সপ্তাহ ভিজবে গোটা রাজ্য, বজ্রঝড়ে দমকা হাওয়ার সতর্কতা
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। হাউজ কাজি থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে, সে তার মাকে ‘অতীতের শাস্তি’ দিতে গিয়েই এমন জঘন্য কাজ করেছে। বর্তমানে তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। সমাজজুড়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, সম্পর্কের প্রতি অবিশ্বাস কতটা গভীর হলে নিজের মায়ের উপরও এমন অমানবিক নির্যাতন চালাতে পারে কেউ।





