Delhi 10/11 blas*t : ডাক্তার থেকে জঙ্গি! ফরিদাবাদ-দিল্লি ষড়যন্ত্রে এক ইমামের ছায়া—চিকিৎসা নাকি ‘জিহাদ’-এর পাঠ?

ডাক্তারের কাজই হল মানুষের জীবন বাঁচানো। অথচ সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, সেই জীবনরক্ষার পেশায় যুক্ত কিছু মানুষই নাকি যুক্ত হচ্ছেন প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্রে। প্রশ্ন উঠেছে—এতদিন যাঁরা রোগীর সেবা করেছেন, তাঁরাই বা কীভাবে জঙ্গি মডিউলের অংশ হতে পারেন? হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধার এবং দিল্লিতে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলার ঘটনার পর থেকেই গোটা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

প্রথমে এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই মিল খুঁজে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। গত তিনদিনে যাঁদের নাম সামনে এসেছে, তাঁদের বেশিরভাগই ডাক্তার—ডাঃ আদিল আহমেদ রাথের, ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল, ডাঃ শাহিনা শাহিদ, ডাঃ উমর নবি ভাট এবং ডাঃ সাজাদ আহমেদ মালা। এঁদের সঙ্গে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিনজন ডাক্তারের যোগাযোগ নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, এই চক্রের মূলসূত্র রয়েছে কাশ্মীরে। ফরিদাবাদে নয়, বরং শ্রীনগরের জিএমসি মেডিক্যাল কলেজেই শুরু হয়েছিল সবকিছু। সেখানে কর্মরত ছিলেন এক প্রাক্তন ইমাম, নাম মৌলবি ইরফান। তিনি প্যারামেডিক্যাল কর্মী হিসেবে কাজ করতেন, কিন্তু অভিযোগ—এই সুযোগেই তিনি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরমপন্থী ভাবধারা ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন।

ইরফানই নাকি ডাক্তারি পড়ুয়াদের ধীরে ধীরে মৌলবাদী চিন্তায় প্রভাবিত করেছিলেন। ধর্মীয় আলোচনার আড়ালে গোপনে গড়ে উঠতে থাকে এক নতুন ভাবধারা, যেখানে চিকিৎসা নয়, “জিহাদ”-এর বার্তাই হয়ে ওঠে কেন্দ্রবিন্দু। তদন্তে জানা গেছে, ইরফান ছাড়াও আরও দুই ব্যক্তি এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা একত্রিত হয়ে ফরিদাবাদ-দিল্লি জঙ্গি মডিউল গঠন করেন।

আরও পড়ুনঃ Budh Vakri 2025: বুধ বক্রীতে ভাগ্য খুলছে এই ৪ রাশির! টেনশন নয়, ২০ দিন কাটবে সুখ আর সাফল্যে

তদন্তকারীরা এখন সন্দেহ করছেন, এই তিনজনের সঙ্গে জৈশ-ই-মহম্মদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সংস্থা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তেই বহু প্রমাণ মিলেছে। চিকিৎসার সাদা অ্যাপ্রনের আড়ালে এমন ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে—এমন ধারণা কেউ করেননি। সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির একাংশ যখন বিপথে যাচ্ছে, তখন গোটা দেশই আতঙ্কিত—কেননা প্রশ্নটা এখন কেবল নিরাপত্তার নয়, বিশ্বাসেরও।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles