উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’, দুর্যোগ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বাংলা, মোতায়েন বিপর্যয় বাহিনীর ৮ দল

ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ‘জাওয়াদ’। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বৈঠক করেছেন। অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করার জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সেই নিয়ে আলোচনা হয় এই বৈঠকে। এই ঘূর্ণিঝড় বাংলার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই কারণে নবান্নে বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যসচিব।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে এই নিম্নচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। তা রাতেই শক্তি বাড়িয়ে তা গভীর নিম্নচাপের রূপ নেবে। আগামী শনিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ আছড়ে পড়বে অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে। এর প্রভাবে আগামীকাল, শুক্রবার সকালের পর থেকে আবহাওয়া বদলাতে শুরু করবে।

আগামী শনিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং ঝাড়গ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এর সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। রবিবার কলকাতা-সহ হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বৃষ্টির সর্তকতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে নবান্নের তরফে। আজ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপকূলবর্তী জেলাশাসকদের সঙ্গে মুখ্যসচিব বৈঠকে বসবেন বলে জানা গিয়েছে। সুন্দরবনে ইতিমধ্যেই মাইকিং শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাদের ফিরে আসতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আটটি দল। আজ, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে আরও আটটি দল মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও রাজ্যে ফ্লাড সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে। যাতে ক্ষতি না হয়, তাই কৃষকদের ফসল তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে খবর।

RELATED Articles