বাজারে বহুল ব্যবহৃত মশলার ব্র্যান্ড এভারেস্টকে ঘিরে বড়সড় পদক্ষেপ করল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা FSSAI। সংস্থার তৈরি হিংয়ের নমুনা পরীক্ষায় নির্ধারিত মান পূরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার রিপোর্টে হিংকে ‘misbranded’ এবং ‘sub-standard’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরেই এভারেস্টের কম্পাউন্ডেড হিং বা হিং পাউডারের সব ধরনের ভ্যারিয়েন্ট বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। FSSAI-এর নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ইতিমধ্যে বাজারে থাকা নিম্নমানের পণ্য স্বেচ্ছায় তুলে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থাকে এই অনিয়মের ব্যাখ্যা দিতে এবং ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে চলার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনা সামনে আসে FSSAI-এর হিং সংক্রান্ত নজরদারি এবং পরীক্ষার পর। একটি ভোক্তার অভিযোগের পর একাধিক বড় হিং ব্র্যান্ডের পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এভারেস্টের ক্ষেত্রে নমুনা নেওয়া হয় গুজরাটের উমরগাঁওয়ে অবস্থিত সংস্থার ইউনিট থেকে। সেই নমুনাগুলি পরীক্ষার পর নির্ধারিত খাদ্যমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিয়ম অনুযায়ী, কম্পাউন্ডেড হিংয়ে অন্তত ৫ শতাংশ অ্যালকোহল-দ্রবণীয় নির্যাস থাকা প্রয়োজন। সহজভাবে বললে, কম্পাউন্ডেড হিং হল এমন এক ধরনের মিশ্রিত গুঁড়ো, যেখানে প্রতিদিনের ব্যবহারের সুবিধার জন্য হিংয়ের সঙ্গে ভোজ্য স্টার্চ বা ময়দা জাতীয় উপাদান মেশানো হয়। পরীক্ষায় এভারেস্টের হিং সেই নির্ধারিত মান পূরণ করেনি বলেই জানিয়েছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
শুধু হিং নয়, এভারেস্টের আরও তিনটি মশলা নিয়েও পরীক্ষায় নিয়ম না মানার বিষয় সামনে এসেছে। FSSAI জানিয়েছে, এভারেস্টের এগ কারি মশলা, চিকেন মশলা এবং গরম মশলার নমুনাতেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে না চলার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে এই তিনটি পণ্যের বিক্রির উপর এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। অর্থাৎ হিংয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ এলেও বাকি তিন মশলার ক্ষেত্রে আপাতত অনিয়মের বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। FSSAI-এর পক্ষ থেকে এভারেস্ট ফুড প্রোডাক্টসকে পুরো বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে এই ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে বন্ধ করা হবে, সেই বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যানও জমা দিতে বলা হয়েছে।
FSSAI-এর এই পদক্ষেপের ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এভারেস্টের হিং নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখা এবং সঠিক তথ্য দিয়ে পণ্য বাজারজাত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনায় তা ফের সামনে এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় যে পণ্যগুলি নির্ধারিত মান পূরণ করেনি, সেগুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী পদক্ষেপ নিতে হবে। ইতিমধ্যে বাজারে থাকা নিম্নমানের হিং ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এভারেস্টের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে তখনই, যখন সংস্থা নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে। ফলে আগামী দিনে সংস্থার তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুকে দেখলেন কাছ থেকে! অবশেষে উদ্বেগ থেকে রেহাই, কলকাতায় ফিরলেন খরাজ মুখোপাধ্যায়! বিমানবন্দরে নেমে শোনালেন নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে আটকে পরার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা?
উল্লেখ্য, একই ধরনের পদক্ষেপ আরেকটি সংস্থা লালজি গোধু অ্যান্ড কোম্পানির হিংয়ের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়েছে। FSSAI-এর পরীক্ষায় সেই সংস্থার হিংও নির্ধারিত মান পূরণ করেনি বলে জানানো হয়েছে। তবে এভারেস্টের ঘটনায় বিশেষভাবে কম্পাউন্ডেড হিংয়ের নমুনাকে ‘misbranded’ এবং ‘sub-standard’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর খাদ্যপণ্যের গুণমান নিয়ে ফের সতর্কতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এভারেস্টের অন্যান্য মশলার ক্ষেত্রেও যে নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে, তাও স্পষ্ট। এখন সংস্থার ব্যাখ্যা এবং সংশোধনী পরিকল্পনার উপর পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করছে।






