Terror alert : রেললাইনে পাথরের ফাঁদ! যুদ্ধকালীন সময়ে দেশে বড়সড় নাশকতার ছক?

ঘরে বসে থাকা মানুষ হোক বা প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়াত করা যাত্রী—সবারই মনে ভর করে একটাই প্রশ্ন, ‘এই রেললাইনে আমি কি নিরাপদ?’ একটা ট্রেন দুর্ঘটনা কতটা ভয়ানক হতে পারে, তা অতীতের বহু অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি। তাই যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ রেললাইনের ওপর পাথর রেখে দেয়, তা হলে সেটিকে নিছক কৌতুক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দেশের যে কোনও প্রান্তে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকে পড়ে—তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরেও এখন সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে চলছে নিরাপত্তা আঁটসাঁট করার কাজ। কোথাও সেনা মোতায়েন, কোথাও চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি। কিন্তু সেই আঁটসাঁট নিরাপত্তার মাঝেও যদি কেউ রেল লাইনে পাথর রেখে যায়, তাতে তো প্রশ্ন উঠবেই। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই কোয়েম্বাটুরে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। রেললাইনের উপর পাথর পড়ে থাকতে দেখা যায় এক্সপ্রেস ট্রেন যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই। কে বা কারা এমন কাজ করল, তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা।

বুধবার সকালে এরনাক্কুলাম থেকে কড়াইকালের পথে চলা টি গার্ডেন এক্সপ্রেস যাওয়ার ঠিক পরেই রেল লাইনের পাশে পড়ে থাকা পাথর নজরে আসে স্থানীয় কর্মীদের। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রেল পুলিশকে। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঁচ জন সন্দেহভাজনের পরিচয় উঠে আসে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একে একে সবাইকে আটক করে। তবে এখানেই থেমে থাকেনি প্রশ্ন।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই বয়স কিশোর পর্যায়ে। জানা গেছে, ধৃতরা হল দীনেশ করণ, জেগাদিশান, সারথী, প্রতাপ এবং এক অপ্রাপ্তবয়স্ক। প্রত্যেকেই একটি বেসরকারি কুরিয়ার সংস্থায় কাজ করত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ছেলেগুলো কেন এমন বিপজ্জনক কাজ করল? জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, তারা নাকি “মজা করেই” রেল লাইনে পাথর রেখে দিয়েছিল। কিন্তু মজার ছলে এমন জীবনঘাতী কাজ? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? না কি এর আড়ালে রয়েছে বড় কোনও পরিকল্পনা?

আরও পড়ুনঃ India pakistan war : পাকিস্তান ভারতের সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করছে সীমান্তে জোরদার নিরাপত্তা সত্ত্বেও বিপদ বাড়ছে!

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্তরা ট্রেন যাওয়ার পরেই লাইনে পাথর ফেলে চম্পট দেয়। যদিও তারা বলেছে, এ কাজ শুধুই দুষ্টুমির ছলে করা, তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ—এমন একটি সময়ে, যখন দেশজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি, তখন কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের ইঙ্গিতে কি এই কিশোরদের ব্যবহার করা হয়েছে? গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এমন ঘটনা যে কোনও সময় প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে কি না, সেই প্রশ্নে এখন জোর তদন্ত চলছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles