দেশের আর্থিক দুনিয়ায় আচমকাই এক সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তির পরিবেশ। বড় কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তি হঠাৎ সরে দাঁড়ালে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঠিক তেমনই এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন চর্চায় ব্যস্ত ব্যাঙ্কিং মহল থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারী—কী ঘটল পর্দার আড়ালে?
এই প্রেক্ষিতেই সামনে আসে HDFC Bank-এর আংশিক সময়ের চেয়ারম্যান অতুনু চক্রবর্তীর পদত্যাগের খবর। সম্প্রতি তিনি তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যা কার্যত চমকে দিয়েছে অনেককেই। ২০২১ সালে বোর্ডে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন অধিকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। তাঁর এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত ঘিরেই তৈরি হয়েছে জল্পনা।
পদত্যাগপত্রে অতনু চক্রবর্তী স্পষ্টই জানিয়েছেন, গত কিছু সময় ধরে সংস্থার একাধিক সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই ‘নৈতিক দ্বন্দ্ব’-এর কারণেই তিনি এই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও পরে মুখ খুলে তিনি এটিকে ‘রুটিন বিষয়’ বলেই উল্লেখ করেন, তবুও তাঁর চিঠির বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—তবে কি ভিতরে ভিতরে বড় কোনও মতপার্থক্য চলছিল?
অতনুর সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এসেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India)। তাদের অনুমোদনেই কেকি মিস্ত্রিকে অন্তর্বর্তী আংশিক সময়ের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ১৯ মার্চ থেকে আগামী তিন মাস তিনি এই দায়িত্ব সামলাবেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছেন—ব্যাঙ্কের স্থিতিশীলতা ও আস্থা বজায় রাখাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ দৃষ্টি ঝুঁকিতে! অসময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী! সাগরিকা রায়ের সঙ্গে কী ঘটেছে? এখন কেমন আছেন তিনি?
উল্লেখযোগ্যভাবে, অতনু চক্রবর্তী গুজরাত ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তাঁর সময়েই একাধিক আর্থিক সংযুক্তির মাধ্যমে ব্যাঙ্কের আর্থিক শক্তি আরও মজবুত হয়েছে। তবে এই ‘নৈতিক আপত্তি’-র জেরে তাঁর বিদায় নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—শীর্ষ স্তরে কি কোনও গভীর মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব ভবিষ্যতে পড়তে পারে?





