এতদিন যারা নিজেদের পরিবার ছেড়ে, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মোকাবিলায় সমস্ত রোগীদের সেবা করে গেছেন আজ তাঁদের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। করোনার আবহে এখনো অবধি দেশের প্রায় ২০০ জন চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনো অবধি দেশব্যাপী প্রায় ১৯৬ জন চিকিৎসক করোনার শিকার হয়েছেন। আর এই তথ্য একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ থেকে স্বাস্থ্যকর্মী সবাইকে চিন্তায় ফেলেছে তেমনি সরকারের উপরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর সর্বভারতীয় সভাপতি ডাক্তার রাজন শর্মার বক্তব্য, “নিজেদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে যারা মারণ ভাইরাসের মোকাবিলা করছেন, করোনা রোগীদের সুস্থ করতে তাদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছেন, তাঁরাই এখন অসুরক্ষিত। তাদের সুরক্ষার ভীষণ প্রয়োজন। কারণ এই ভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না।”
গত কয়েক মাসে ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়ার খবর এসেছে। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশে ১৯৬ জন ডাক্তার প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে ১৭০ জনেরই বয়স ৫০ বছরের উর্দ্ধে। সেই রিপোর্ট থেকে এও জানা গেছে, জুলাই মাসের মাঝামাঝি ৯৯ জন ডাক্তারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছিল। সেখানে আগস্টের শুরুতেই সংখ্যাটা গিয়ে ঠেকেছে ২০০ র কাছাকাছি। অর্থাৎ মাত্র ১৫ দিনে এই সংখ্যার বৃদ্ধি হয়েছে।
এর আগেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকরা বারবার বলেছেন, তাঁদের যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু সে বিষয়ে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ই জুলাই ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন- এর প্রকাশিত রিপোর্ট দেখে এখন ভীত সবাই। এ বিষয়ে আরও নজর দিতে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও এ বিষয়ে আবেদন জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেও প্রকাশ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দিতে না পারলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কিন্তু ভেঙে পড়বে।





