সকালে উঠেই মানুষ যখন খবরের কাগজ খুলছে বা মোবাইলের স্ক্রল ঘুরিয়ে দিন শুরু করছে, তখনই চোখ আটকে যাচ্ছে এক ভয়ানক আশঙ্কায়—ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যেন যুদ্ধের মেঘ জমেছে। সাধারণ মানুষের ব্যস্ত রুটিনে যেখানে সবকিছুই নিয়মমাফিক চলছে, সেখানে এই হঠাৎ করে ওঠা যুদ্ধের সম্ভাবনা অনেকের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া, ক্যাব-চ্যাট, চায়ের দোকান—সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা, “ভারত কি এবার চুপ করে থাকবে না?”
সম্প্রতি কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া নৃশংস জঙ্গি হামলার পর থেকে গোটা দেশ জুড়ে ক্ষোভ জমাট বেঁধে রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে—এই হামলার বদলা কীভাবে নেবে ভারত? তারই মধ্যে পাকিস্তানের এক মন্ত্রীর মধ্যরাতের বার্তা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্যের পর সীমান্তের ওপারেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির মাঝে মানুষ যেমন ভয় পাচ্ছে, তেমনই আশাবাদীও যে ভারত এবার কড়া জবাব দেবে।
২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন, যাঁদের অনেকেই ছিলেন পর্যটক। এত বড় হামলার পর ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকের শেষে সেনাবাহিনীকে ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—যাতে প্রয়োজন মতো কড়া পদক্ষেপ নিতে কোনও অনুমতির প্রয়োজন না পড়ে।
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানের সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লা তাহার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওবার্তা শেয়ার করেন। তিনি জানান, “বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড়সড় সেনা অভিযান চালাতে পারে।” তিনি দাবি করেন, ভারত এই হামলার দায় পাকিস্তানের ঘাড়ে চাপিয়ে একতরফা পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যদিও পাশাপাশি তিনি বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের শিকার এবং বিশ্বের যেকোনও সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করে। একইসঙ্গে ‘নিরপেক্ষ তদন্ত’-এর দাবিও জানানো হয়েছে ভারতের কাছে।
আরও পড়ুনঃ Kolkata fire: মেছুয়া অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪, মৃ’তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রধানমন্ত্রীর!
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই জঙ্গি হামলার দায় প্রথমে স্বীকার করে নিয়েছিল ‘টিআরএফ’ নামের এক জঙ্গি সংগঠন, যাদের পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বলেই সন্দেহ। পরে তারা অবশ্য দায় অস্বীকার করে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, হামলায় অংশ নেওয়া চার জঙ্গির মধ্যে দুই জন পাকিস্তানি। আর এটাই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ভারত একাধিকবার সীমান্তপারে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে, এবং এবার হয়তো কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও দিল্লির সাম্প্রতিক তৎপরতা দেখে অনেকেই মনে করছেন, বড়সড় কোনও পদক্ষেপ এবার শুধুই সময়ের অপেক্ষা।





