আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে ফের উত্তেজনার ছায়া! প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড়সড় কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের পর থেকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বহু পুরনো এক চুক্তি—সিন্ধু জলচুক্তি। কিন্তু এ বারে তা শুধুই ‘আলোচনার বিষয়’ নয়, বরং কার্যত শেষ চক্রে পৌঁছে গিয়েছে সেই চুক্তির পরিণতি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—আর কখনওই পুনর্বহাল করা হবে না সিন্ধু জলচুক্তি। তাঁর কথায়, “এই চুক্তির ভিত্তিপত্রেই বলা আছে, এটি দুই দেশের শান্তি ও অগ্রগতির কথা ভেবে তৈরি। কিন্তু পাকিস্তান যদি শান্তি ভাঙে, তবে ভারতকেও আর এই চুক্তি রক্ষা করার দায়ে পড়তে হবে না।” ফলে বহু দশক ধরে চলে আসা এক ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যত ইতিহাসে পরিণত হতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে জলে ভাসিয়ে রাখা নয়, বরং সেই জল নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করার পথে হাঁটছে ভারত। অমিত শাহ জানিয়ে দিয়েছেন, “যে জল এতদিন পাকিস্তান পেত, এবার সেই জল খাল কেটে রাজস্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।” অর্থাৎ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জলসংকটের মোকাবিলা করতে এবং পাকিস্তানকে চাপে রাখতে একইসঙ্গে কৌশলী পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র।
পহেলগাঁও হামলার ঠিক পরেই কেন্দ্রীয় সরকার সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা করেছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল, নয়াদিল্লি তার অবস্থানে অনড়। পাকিস্তান যতই দাবি করুক যে এত বিপুল জল ভারত একা ধরে রাখতে পারবে না, তবু এবার সেই জলও ‘ধরে রাখার’ জন্য তৈরি হচ্ছে পরিকাঠামো। এই খাতেই উঠে আসছে খাল কাটা ও রাজস্থানে জল প্রবাহিত করার পরিকল্পনা।
আরও পড়ুনঃ Cyber crime : প*র্ন ভিডিও দিয়ে ফাঁসানোর ছক! নামী ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লুট, ধৃত দুই প্রতারক!
সিন্ধু জলচুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের ‘অপরিবর্তনীয়’ চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও, এবার তারই অবসান ঘটিয়ে ভারত বুঝিয়ে দিল, কূটনৈতিক স্তরে এখন আর রক্ষণাত্মক নয়, আক্রমণাত্মক পথেই হাঁটবে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতেই জল নিয়ে এই ‘শক্ত’ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে মোদী সরকার। জল যেমন জীবন, তেমনি যুদ্ধেও হয়ে উঠতে পারে চূড়ান্ত অস্ত্র—সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।





