বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনার বিষয়। দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি, আর সেই সময় থেকেই হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করছেন বলে খবর। কিন্তু এখন প্রশ্ন আরও বড়—বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে কি তাঁকে ফেরত পাঠাবে ভারত? এই প্রশ্ন ঘিরেই সরগরম রাজনৈতিক মহল।
জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। একই মামলায় এক পুলিশকর্তাকে রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় ঘোষিত হতেই ঢাকা বিদেশ মন্ত্রকের তরফে নয়াদিল্লিতে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে বলা হয়, ভারতীয় হাইকমিশনার যেন দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকে বিষয়টি দ্রুত পৌঁছে দেন।
বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত সবসময় বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়—যার মধ্যে রয়েছে শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা। সাংবাদিকরা যখন হাসিনাকে ঘিরে চিঠির প্রসঙ্গ তোলেন, তখন তিনি স্বীকার করেন, “হ্যাঁ, আমাদের কাছে একটি অনুরোধ এসেছে। বিচারবিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে এখনই ভারত কোনও সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকছে এমন ইঙ্গিত দেননি তিনি।
আসলে এই প্রথম নয়। এর আগেও, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো হয়েছিল দিল্লিতে। তখনও ভারত কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ফলে স্পষ্ট, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই চালু আছে, এবং তা আরও জটিল আকার নিচ্ছে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর।
আরও পড়ুনঃ ইমরান খানকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক—মৃত্যুর গুজবে উত্তপ্ত পাকিস্তান, বোনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে নতুন সংকট
ভারত কি সত্যিই হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে? সরকারি ভাবে এখনও কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য না এলেও কূটনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, অন্যদিকে আইনি ও মানবিক দিক—সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। আপাতত নয়াদিল্লির বক্তব্য, “প্রক্রিয়া চলছে”। এখন নজর রাখার বিষয়, ভারত কখন এবং কী সিদ্ধান্ত জানায়, আর সেই পদক্ষেপে দুই দেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়।





