Goddess Kali Turned into Mother Mary: রাতারাতি কালীমূর্তি দুধ-সাদা! কোলে জিশু খ্রিস্ট, মন্দিরে হুলস্থুল—ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ধৃত পুরোহিত!

মুম্বইয়ের চেম্বুর এলাকার একটি ছোট মন্দির হঠাৎ করেই শহরের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ভোরবেলা মন্দিরে গিয়ে স্থানীয়রা যে দৃশ্য দেখেন, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। মানুষজন কেউ অবাক, কেউ ক্ষুব্ধ—কিন্তু সকলের চোখে একটাই প্রশ্ন, মন্দিরে ঠিক কী ঘটেছে রাতারাতি?

ঘটনার সূত্রপাত যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবির ঝড় ওঠে। ছবিতে দেখা যায়—মন্দিরের কালীমূর্তির গাত্রবর্ণ হঠাৎ বদলে গিয়ে দুধ-সাদা হয়ে গেছে। মাথায় সোনালি মুকুট, আর তার উপর স্পষ্ট সোনালি ক্রুশের চিহ্ন। সবচেয়ে বড় বিস্ময়—মূর্তির কোলে চেনা যায় শিশুরূপী জিশু খ্রিস্টকে। সাধারণত মা কালীর গায়ের রং কালো বা নীল হয়। তাই এই পরিবর্তন দেখে অনেকেরই ধারণা, আগের মূর্তি সরিয়ে নতুন একটি মূর্তি বসানো হয়েছে। মন্দিরের পিছনের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাও পাল্টে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

ছবি ছড়াতেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। প্রথমে স্থানীয় কয়েকজন মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলেন। তার পর ধীরে ধীরে বিষয়টি পৌঁছে যায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির কাছে। তারা অভিযোগ তোলে—এটি ধর্মবিশ্বাসে ‘ইচ্ছাকৃত আঘাত’। অভিযোগ ওঠে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’-এরও। মন্দির ঘিরে বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

পুলিশ তদন্ত শুরু করলে নজর যায় মন্দিরের পুরোহিতের দিকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, মা কালী স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন—মূর্তির সাজসজ্জা পাল্টাতে এবং তাঁকে মাদার মেরির রূপে উপস্থাপন করতে। পুরোহিতের দাবি, দেবীর নির্দেশ মেনেই তিনি নতুন সাজে মূর্তি তৈরি করান। তবে তাঁর বক্তব্য মেনে নিতে রাজি নন স্থানীয়রা। তাঁদের একাংশ মনে করেন, এটি পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের চেষ্টা।

আরও পড়ুনঃ India on Sheikh Hasina: হাসিনাকে কি ফেরত দেবে ভারত? ঢাকা–দিল্লির গোপন চিঠি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে! চিঠির কি উত্তর দিল নয়া দিল্লি?

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় মামলা হয়েছে—যার আওতায় ধর্মীয় স্থানের ক্ষতিসাধন ও বিশ্বাসে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়। পুরোহিতকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে—তিনি একাই এই কাজ করেছেন, নাকি এর পেছনে আরও কেউ রয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের দাবি, এখানে বড় কোনও পরিকল্পনা লুকিয়ে থাকতে পারে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles