গতানুগতিক জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ভারত। রেল ব্যবস্থা সেই লক্ষ্যেই নিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এবার দেশের রেল পরিকাঠামোতে যুক্ত হতে চলেছে এমন এক ট্রেন, যা চলবে একদম ভিন্ন প্রযুক্তিতে—হাইড্রোজেন শক্তির মাধ্যমে। প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে সেই ট্রেন চলল, আর সফলভাবেই সম্পন্ন হলো দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের ট্রায়াল।
সম্প্রতি চেন্নাইয়ের ভিলিভাক্কামে ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে সম্পন্ন হয়েছে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের কোচ পরীক্ষার প্রথম ধাপ। পরীক্ষার পর ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরির জেনারেল ম্যানেজার সুব্বা রাও জানান, ‘প্রথম পর্যায়ে পাওয়ার কারের পরীক্ষা সফল হয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহে দ্বিতীয় পাওয়ার কারও পরীক্ষা হবে। এরপর পুরো ট্রেনের সমন্বয়ে ফের ট্রায়াল হবে।’ চেন্নাইয়ের ওই কারখানায় ট্রেনটি ১,২০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতায় পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে।
হাইড্রোজেন ট্রেন দেখতে অনেকটাই লোকাল ট্রেনের মতো হলেও, এর গতি অনেক বেশি। ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম এই ট্রেন। এতে থাকবে ৮টি কামরা এবং দু’প্রান্তে থাকবে দুটি হাইড্রোজেন চালিত ইঞ্জিন, যা কামরাগুলোকে টেনে নিয়ে যাবে। আপাতত এই ট্রেন চালানো হবে নর্দান রেলওয়ের জিন্দ-সোনিপত রুটে। পাশাপাশি এই ট্রেন চালনার জন্য হাইড্রোজেন উৎপাদনের পৃথক কারখানাও তৈরি করেছে রেল দফতর।
এই ট্রেন চলবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে। প্রথমে হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, সেই বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষিত হয়। পরে সেই শক্তি ট্রেনের রেক্টিফায়ার এবং বৈদ্যুতিক সিস্টেমের মাধ্যমে ট্র্যাকশন মোটরে পাঠানো হয়, যা ট্রেনের চাকায় শক্তি জোগায়। এই প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব, কারণ এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় নেই বললেই চলে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : সরকার বদলের পরও বন্ধ হয়নি হামলা! ১৭৬৯টি সহিংসতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে তীব্র সমালোচনায় মার্কিন রিপোর্ট!
ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি খুব শীঘ্রই এই ট্রেনকে ভারতীয় রেলের হাতে তুলে দেবে। এরপর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু চূড়ান্ত পরীক্ষা ও মান যাচাইয়ের পর অগস্টের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক ভাবে যাত্রা শুরু করবে এই ট্রেন। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী রাজ্যসভায় জানিয়েছিলেন, সারা দেশে মোট ৩৫টি হাইড্রোজেন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। প্রতিটি ট্রেন তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৮০ কোটি টাকা এবং প্রতিটি রুটের পরিকাঠামো তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছে ৭০ কোটি টাকা। দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।






