Bangladesh : সরকার বদলের পরও বন্ধ হয়নি হামলা! ১৭৬৯টি সহিংসতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে তীব্র সমালোচনায় মার্কিন রিপোর্ট!

ধর্মীয় বিশ্বাসে স্বাধীনতা, মতপ্রকাশে স্বাধীনতা—গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহু দেশেই এই মৌলিক অধিকারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারই এক উদ্বেগজনক ছবি উঠে এল প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টালমাটালের আবহে দেশটিতে সংখ্যালঘুদের ওপর বাড়ছে অত্যাচার, ধর্মীয় সহিষ্ণুতাও রয়েছে প্রশ্নের মুখে। এবার সেই বিষয়েই সরব হল আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনস্থ একটি কমিশন।

চলতি বছরের মে মাসে ঢাকায় সফরে আসে আমেরিকার ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (USCIRF)। তারা বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সফরের ভিত্তিতেই সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কমিশন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন নানা ধরনের ভয়ের পরিবেশে রয়েছেন। ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার খর্ব হচ্ছে। স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে বাধা আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।

রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের জেরে সরকার পরিবর্তন হয়। এরপর আগস্টে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মহম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন। কিন্তু রাজনৈতিক রদবদলের পরেও দেশে স্থিতিশীলতা ফেরেনি। ৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও সরকারের পতনের সময় দেশে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়, যার জেরে ঘটে ভয়াবহ সহিংসতা। হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ের উপর আক্রমণ হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই হামলাকে আওয়ামি লিগের সমর্থকদের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

পুলিশি রিপোর্ট উদ্ধৃত করে ইউএসসিআইআরএফ জানিয়েছে, ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশজুড়ে ১,৭৬৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১,২৩৪টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ২০টি সাম্প্রদায়িক ও ১৬১টি ছিল ভূয়া অভিযোগের ভিত্তিতে। এমনকি ‘ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ’ ফেব্রুয়ারি মাসে একটি মহিলা ফুটবল ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য করে। সংস্থার মতে, এখনও বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন (দণ্ডবিধি ১৯৫এ) বলবৎ রয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বড়সড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুনঃ RG KAR case : আবার মশাল হাতে রাজপথে জুনিয়র ডাক্তাররা! আরজি করের অভয়ার স্মৃতিতে রাতভর প্রতিবাদের ডাক!

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়কালে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৭২ জন। আহত হয়েছেন ১,৬৭৭ জনেরও বেশি। গণপিটুনিতে মারা গিয়েছেন ১৯ জন। ‘অধিকার’-এর মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নাগরিক অধিকার দুই-ই চূড়ান্ত সংকটে। ইউএসসিআইআরএফ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সংবিধানে সংখ্যালঘুদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি না ঘটলে এই বৈষম্য আগামী দিনে আরও প্রকট হতে পারে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles