বহুদিন না খেয়ে কাটে, দেশে এমন শিশুর সংখ্যা শুনে অবাক হবেন আপনিও। জানা গিয়েছে, ভারতে এমন শিশুর সংখ্যা প্রায় সাত কোটি। এই তথ্য উঠে এসেছে ভারত সরকার প্রকাশিত নানা পরিসংখ্যান রিপোর্টের বিশ্লেষণে। এমনকি নানা এলাকায় সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সমীক্ষার রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের থেকেও ভারতের অবস্থা খারাপ। এমনকি পশ্চিম আফ্রিকার বহু দেশের থেকে পিছিয়ে ভারত।
অনাহারে থাকা শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পশ্চিম আফ্রিকার গিনির, যেখানে ২১.৮ শতাংশ শিশুর দু-বেলা খাওয়া জোটে না। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালি। এই দেশের ২০.৫ শতাংশ শিশু বছরের বহুদিন অনাহারে থাকে। ভারতে জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য নমুনা সমীক্ষার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করেছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, এই দেশে ৬ থেকে ২ বছর বয়সি ছয় কোটি সত্তর লাখ শিশুর সারাদিনে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া আর কোনও খাবার পায়না। অনাহার, অপুষ্টিতে আক্রান্ত মায়েরা সন্তানকে পর্যাপ্ত বুকের দুধ দিতে পারেন না। সেক্ষেত্রে, সন্তানরা কার্যত না খেয়েই থাকে। অনাহারে থাকা এমন শিশুর সংখ্যা বাংলাদেশে ৫.৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৯.২ শতাংশ ভারতে ১৯.৩ শতাংশ।
উল্লেখ্য, স্বল্প ও মধ্য আয়ের ৯২টি দেশে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল এ ব্যাপারে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এসভি সুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বে বৈজ্ঞানিকরা সমীক্ষার রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিজ্ঞান জার্নাল জামা নেটওয়ার্ক ওপেন-এ রিপোর্টি প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্বের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা এই সমীক্ষায় যুক্ত ছিলেন। এই সমীক্ষায় যে ছবিটি উঠে এসেছে তা সত্যি ভয়ানক। বহু গবেষক একত্রে বিশ্বে শিশুদের অনাহারের চিত্রটি প্রকাশ করেছেন।
ভারতের দিক থেকে ওই সমীক্ষা দলে ছিলেন বিশিষ্ট শিশু ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বন্দনা প্রসাদ। তিনি বলেছেন, “দারিদ্রতাই অভুক্ত শিশুদের সমস্যার অন্যতম কারণ। দারিদ্রতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।” তাঁর কথায়, “খাবার কিনতে না পারাই একমাত্র সমস্যা নয়। আসলে বাবা-মাকে রুটিরুজির সন্ধানে সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ফলে শিশুদের খাবার খাওয়ানোর কেউ বাড়িতে না থাকাটাও অভুক্ত থাকার অন্যতম কারণ।”






