উত্তরপ্রদেশে বহু কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় নাম জড়াল খ্যাতনামা হেয়ারস্টাইলিস্ট জাভেদ হাবিবের। সম্ভল পুলিস তাঁর ও পরিবারের কয়েকজনের নামে লুকআউট নোটিস জারি করেছে। অভিযোগ, ফোলিকল গ্লোবাল কোম্পানি–র মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিপুল মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে হাবিবের আইনজীবীর দাবি, তাঁর কোনও আর্থিক বা ব্যবসায়িক যোগ নেই, তিনি শুধু সেমিনারের অতিথি ছিলেন।
পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, হাবিবের ছেলে ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ২০টি মামলা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা ৫০-৭৫ শতাংশ লাভের লোভ দেখিয়ে অন্তত ১৫০ জনকে বিটকয়েন ও বিন্যান্স কয়েনে বিনিয়োগ করিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, লভ্যাংশ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে। কিন্তু টাকা ফেরত চাইলে হঠাৎই কোম্পানি গায়েব হয়ে যায়, অভিযুক্তরাও পলাতক।
সম্ভল পুলিস সুপার কে কে বিষ্ণোই জানিয়েছেন, মামলায় প্রাথমিকভাবে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের তালিকা এখনও বাড়ছে, ফলে মোট পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তদন্তে আপাতত ১ কোটি টাকার জালিয়াতি নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা গ্যাং হিসেবে কাজ করত এবং প্রতিবার ৫-৭ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিত। এ পর্যন্ত ৩৫ জন অভিযোগ করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হাবিবের স্ত্রী এই FLC–র প্রতিষ্ঠাতা। ২০২৩ সালে সম্ভলে একটি বড় অনুষ্ঠানে ১০০–এরও বেশি মানুষ লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এই কোম্পানির অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি ও ডিজিটাল লেনদেন এখন তদন্তাধীন। বিনিয়োগকারীদের বলা হয়েছিল, ডিজিটাল মুদ্রায় বিনিয়োগ করে বিশাল লাভ হবে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়, যোগাযোগের সব পথই বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : খগেনের উপর হামলায় ক্ষোভে শুভেন্দু! রাজ্যপালকে চাপে রেখে কড়া বার্তা— “বেঙ্গল ওয়ান্ট অ্যাকশন!”
আইনজীবী পবন কুমার জানিয়েছেন, জাভেদ হাবিবের নামে কোনও সরাসরি অভিযোগ নেই। তিনি শুধুমাত্র ২০২৩–এর সম্ভল সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, যা ছিল চুল ও সৌন্দর্য ব্যবসা প্রচারের জন্য। ওই বছরের ২২ জানুয়ারি তাঁরা পাবলিক নোটিশ দিয়ে জানিয়েছিলেন, FLC–র সঙ্গে তাঁদের কোনও আর্থিক বা ব্যবসায়িক যোগ নেই। হাবিব যখন জানতে পারেন, কোম্পানির নামে প্রতারণা চলছে, তখনই সেই নোটিশ জারি করেছিলেন। তাঁর দাবি, প্রমাণ ছাড়া এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে।





