টলিপাড়ার পরিচিত দম্পতি মধুবনী গোস্বামী ও রাজা গোস্বামী তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত প্রায়ই ভাগ করে নেন ভক্তদের সঙ্গে। বিশেষ করে মধুবনী এখন নিয়মিত ভ্লগের মাধ্যমে নিজের দিনযাপন তুলে ধরেন। অভিনয়ে তাঁকে আগের মতো দেখা না গেলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর উপস্থিতি বেশ সক্রিয়। রাজাও তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ভিডিওতে থাকেন। কাজের ব্যস্ততা থাকলেও পরিবারকে সময় দেওয়া তাঁদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের ছেলেকে ঘিরেই বেশি পোস্ট করতে দেখা যায়। এই কারণেই তাঁদের পারিবারিক মুহূর্তগুলি ভক্তদের কাছেও আলাদা গুরুত্ব পায়।
এদিকে রাজা গোস্বামী ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে কাজ করছিলেন, তবে সহ-অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর সেই প্রজেক্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কর্মজীবনের এই পরিস্থিতির মধ্যেও পরিবারে এসেছে আনন্দের মুহূর্ত। কারণ তাঁদের ছেলে কেশবের পাঁচ বছরের জন্মদিন। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টে ছিল ছেলের জন্মের সময় হাসপাতালের একটি পুরনো ছবি। সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন হৃদয়ের কথা।
কেশবের জন্মদিন উপলক্ষে লেখা বার্তায় রাজা ও মধুবনী তাঁদের ছেলেকে জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা লিখেছেন, কেশব তাঁদের কাছে অক্সিজেন, জল, সূর্য আর পৃথিবীর মতোই অপরিহার্য। পাঁচ বছরে পা দেওয়া ছেলের সুস্থতা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা আশা করেছেন, কেশব যেন ভালো মানুষ হয়ে ওঠে এবং মন দিয়ে পড়াশোনা করে। সন্তানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।
চিঠির এক অংশে তাঁরা জানিয়েছেন, কেশব তাঁদের জীবনকে সম্পূর্ণ করেছে। তাঁরা মনে করেন, বাবা-মা হিসেবে নিজেদের বেছে নেওয়ার জন্য ছেলেকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। ছেলের সঙ্গে আরও দীর্ঘ সময় কাটাতে চান বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। সেই কারণেই নিজেদের শারীরিক সুস্থতার দিকেও এখন বেশি নজর দিচ্ছেন। ২০২১ সালের ৯ এপ্রিল তাঁদের জীবনে আসা এই উপহার তাঁদের কাছে আজও বিশেষ। সেই দিনের জন্য তাঁরা ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সবশেষে কেশবের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁরা বলেন, ‘ভালোবাসা’ শব্দটাও যেন যথেষ্ট নয়। সন্তানের জন্য মনের অনুভূতি ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না বলেই তাঁদের মনে হয়। তাঁরা আরও ভালো শব্দ খুঁজে পান না, যা দিয়ে ছেলেকে নিয়ে অনুভূতি বোঝানো সম্ভব। ছেলের সুস্থ জীবন এবং ভালো মানুষ হয়ে ওঠার কামনাই তাঁদের প্রধান। আশীর্বাদ আর ভালোবাসায় ভরা এই বার্তা শেষ করেছেন ‘তোমার মা ও বাবা’ লিখে।






