Debangshu Bhattacharya : “ধর্মঘটটাও দেশজুড়ে বামফ্রন্টই ডেকেছে”— তবু ফরমান জারি কেরলে! বামেদের দ্বিচারিতা ফাঁস করলেন দেবাংশু!

ধর্মঘট মানেই কর্মবিরতি, প্রতিবাদ—এটাই যেন স্বাভাবিক ধারণা। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন বন্‌ধের ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মেলে না, তখন তা রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। এই অবস্থায় বামেদের ডাকা সর্বভারতীয় বন্‌ধকে কেন্দ্র করে উঠে এল এক চমকপ্রদ দৃশ্যপট—যেখানে বন্‌ধ ডেকেও কেরলে সরকারি কর্মীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক করেছে বামফ্রন্ট সরকার। আর এই দ্বিচারিতাকেই হাতিয়ার করে বামেদের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।

আজ, বুধবার, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্‌ধ চলছে বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকে। মূলত কেন্দ্রের নয়া শ্রম কোডের বিরোধিতাতেই এই বন্‌ধ ডাকা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রেল ও বাস পরিষেবায়। অথচ এই বন্‌ধেই কেরলের বাম সরকার নিজেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের অফিসে আসা বাধ্যতামূলক। বন্‌ধ সমর্থন করে বাড়িতে বসে থাকা চলবে না। ঠিক এমনই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও, তবে সেটি বন্‌ধ ব্যর্থ করার লক্ষ্যে।

এই প্রসঙ্গে দেবাংশু ভট্টাচার্যের সোশাল মিডিয়া পোস্ট ইতিমধ্যেই ভাইরাল। তিনি লিখেছেন, ‘‘ধর্মঘটের দিন কাজে যোগ না দিলে কী কী হবে, তার একটি সরকারি ফরমান। আপনারা ভাবতে পারেন এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের… কিন্তু না, এটা কেরালার বামফ্রন্ট সরকারের ফরমান!’’ একইসঙ্গে তিনি তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন বামেদের, বন্‌ধ ডেকেও কর্মীদের কাজে যেতে নির্দেশ দিয়ে তারা নিজেদের দ্বিচারিতা প্রমাণ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন।

বামেদের এই বন্‌ধকে ঘিরেই আগেই প্রশ্ন উঠেছিল—তৃণমূল কেন সমর্থন করছে না? সিপিএমের এই প্রশ্নের জবাবে দেবাংশু বলেন, ২০১১ সালের পর থেকেই বাংলায় বন্‌ধ সংস্কৃতি বিদায় নিয়েছে। মানুষ এখন বন্‌ধ নয়, কাজ চায়। আর বন্‌ধের ফলে জনজীবনে ভোগান্তি হয়, তাই যে দলই ডাকুক, তাতে বাংলায় কোনও প্রভাব পড়ে না।

আরও পড়ুনঃ Police slaps protester: “পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো, তৃণমূলের ঝান্ডা ধরো!” — ধর্মঘটে চড়-গ্রেফতারির পর পুলিশকে ঘিরে বামেদের বিস্ফোরক স্লোগান!

এই পরিস্থিতিতে বন্‌ধ নিয়ে দেশের দুই বাম-শাসিত রাজ্যের (কেরল ও পশ্চিমবঙ্গ) দুই ভিন্ন অবস্থান সামনে এসেছে। যেখানে বাংলার তৃণমূল সরকার বরাবরের মতো ধর্মঘট প্রতিহত করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে কেরলের বাম সরকার নিজেই একই পথ অনুসরণ করেছে। অথচ সেই বন্‌ধের ডাক এসেছে নিজেরাই দিয়েছে! আর এখানেই ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল—‘‘যখন নিজেদের সরকার বন্‌ধে অফিস খোলা রাখে, তখন কেন বাংলায় সেই সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন?’’ এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর