ছোটদের ছবি আঁকার হাতেখড়ি স্কুলেই হয়। সেখানে যদি ছবি আঁকার জন্যই শাস্তি জোটে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—শিশুরা কী আদৌ নিরাপদ স্কুলে? এমনই এক ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া এলাকায়। প্রাথমিক স্কুলে পড়া চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর উপর নেমে এল ‘অপমানের শাস্তি’। অভিযোগ, শুধুমাত্র একটি বিশেষ ছবি আঁকার কারণে ছাত্রীর ‘অপরাধ’ ধরে নিয়ে তাঁকে ৫০ বার কান ধরে ওঠবোস করানো হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে তালবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছাত্রীর মা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে স্কুলে একটি জগন্নাথ দেবের ছবি আঁকে। তা নিয়ে আপত্তি জানান এক শিক্ষিকা। এরপরেই শিশুটিকে কান ধরে ৫০ বার ওঠবোস করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় শুধু স্কুল নয়, গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা।
ঘটনার কথা জানার পরেই স্কুলে ছুটে যান ছাত্রীর মা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ছবি আঁকা কি অপরাধ? তাহলে কি একটি ধর্মীয় ছবি আঁকার জন্য বাচ্চাকে এমন অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হল ? মায়ের সাফ অভিযোগ, শিক্ষিকা ইচ্ছাকৃতভাবে বাচ্চার সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন এবং তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। এর পর থেকেই শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে সরব হন অন্যান্য অভিভাবকরাও।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল প্রামাণিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও লিখিত নির্দেশ আসেনি। তবে আমরা সমস্ত শিক্ষকরা একসঙ্গে বসে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সমাধানের চেষ্টা করেছি।” যদিও অনেক অভিভাবকই অভিযোগ করছেন, ঘটনাটিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুনঃ Debangshu Bhattacharya : “ধর্মঘটটাও দেশজুড়ে বামফ্রন্টই ডেকেছে”— তবু ফরমান জারি কেরলে! বামেদের দ্বিচারিতা ফাঁস করলেন দেবাংশু!
তালবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, ওই শিক্ষিকা যাতে আর ক্লাস না নিতে পারেন, তার জন্য অবিলম্বে তাঁকে অপসারণ করতে হবে। শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার শিকার না হয়, তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সকলে। এখন দেখার, ফুল কর্তৃপক্ষ কবে তদন্তে নামে এবং কী সিদ্ধান্ত নেয় এই শিক্ষিকাকে নিয়ে।





