বিহারে ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। এমন সময়ে রাজনীতির ময়দানে নতুন তাপমাত্রা যোগ করল এক পারিবারিক ছবি। হ্যালোইন উৎসব উপলক্ষে আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবকে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সাজগোজ করে মেতে থাকতে দেখা গেছে। আর সেই ছবিই এখন হয়ে উঠেছে বিজেপির তোপের কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই একটি ছবিকেই ঘিরে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক মন্তব্যের ঝড়।
৩১ অক্টোবর, বিশ্বজুড়ে পালিত হয় হ্যালোইন উৎসব। সেই দিনই লালুকন্যা রোহিনী আচার্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন পরিবারের সঙ্গে কিছু মুহূর্ত। ছবিতে দেখা যায়, লালু হাসিমুখে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে বসে আছেন। ছোটদের গায়ে হ্যালোইনের পোশাক, ঘর সাজানো কুমড়োর লণ্ঠন আর হাসির রোল— একেবারে পারিবারিক মুহূর্ত। কিন্তু রাজনীতিতে সেই হাসির ছবিই পরিণত হয়েছে তিরে।
লালুর ছবির জেরেই এবার সরব হয়েছে বিজেপি কিষান মোর্চা। তাদের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে, “বিহারের মানুষ ভুলবেন না, এই লালু যাদবই কুম্ভমেলাকে ফালতু বলেছিলেন। এখন ইংরেজদের উৎসব পালন করছেন।” সঙ্গে হ্যাশট্যাগ— #BiharVotes, #LaluYadav। বিজেপির দাবি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতায় আঘাত হেনে এখন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রদর্শনী করছেন লালু। ভোটের ঠিক আগে এমন ইস্যুই বিজেপি তুলেছে আস্থার প্রশ্নে বিভাজন টানতে।
ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় ফেব্রুয়ারি মাসের সেই বিতর্কের কথা, যখন লালু প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভকে ‘ফালতু’ বলেছিলেন। সেসময় স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান ১৮ জন তীর্থযাত্রী। সেই প্রেক্ষিতেই লালু মন্তব্য করেছিলেন, “কুম্ভের কোনও মানে নেই, সবটাই ফালতু।” তাঁর সেই মন্তব্যে সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। বিজেপি ও অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনরা সেই সময়ও তাঁকে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে skewer করেছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘কুম্ভমেলাকে ফালতু বলেছিলেন লালুপ্রসাদ যাদব!’— এবার নাতিদের সঙ্গে হ্যালোইন পালন করে তীব্র বিতর্কে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, ভোটের আগে চরমে রাজনৈতিক তরজা!
এবার সেই পুরনো মন্তব্যকেই আবার সামনে টেনে এনেছে গেরুয়া শিবির। তাদের বক্তব্য, “যিনি আস্থায় আঘাত করেন, বিহারের মানুষ তাঁকে ভোট দেবে না।” আরজেডি শিবির অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছে, “লালুর ব্যক্তিগত মুহূর্তে রাজনীতি টেনে আনা বিজেপির নোংরা মানসিকতার পরিচয়।” কিন্তু ভোটের আগে যখন প্রতিটি ইস্যুই রাজনৈতিক অস্ত্র হতে পারে, তখন লালুর এক পরিবারের ছবি ঘিরে এই বিতর্ক ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন বিহারের রাস্তায় রাস্তায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।





