রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া (SIR) শুরু হওয়ার আগেই রাজনৈতিক তাপমাত্রা চরমে। এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এসআইআর প্রসঙ্গে মুখ খুলে তিনি এমন এক মন্তব্য করেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। তৃণমূল নেতারা যেখানে এসআইআরকে “বিজেপির ষড়যন্ত্র” বলে দাবি করছেন, সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে নতুন করে ক্ষোভে ফুঁসছে বিরোধীরা।
নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে শুরু হবে বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া (SIR)। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত রাস্তায় নেমে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছেন, দাবি করেছেন—এটি বাংলার গণতান্ত্রিক পরিসরকে নষ্ট করার পরিকল্পনা। এবার সেই সুরে সুর মিলিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। কিন্তু তাঁর কথার একাংশেই তৈরি হয়েছে বড়সড় ঝড়।
ব্রাত্য বসু বলেন, “বিজেপি একটা বিপজ্জনক দল। ওরা ম্যাপ বোঝে না। মায়ানমার থেকে যে পথে রোহিঙ্গারা ঢোকে, সেটাই বর্মা থেকে কলকাতা আসার রাস্তা। ওটাই আজাদ হিন্দ ফৌজ বাহিনীর রাস্তা। বিজেপি সেই পথকে অপমান করছে।” এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে—এই মন্তব্যে কার্যত আজাদ হিন্দ ফৌজ ও রোহিঙ্গাদের একই সারিতে দাঁড় করিয়ে দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী।
বিজেপির তরফে অভিযোগ, ব্রাত্য বসুর মন্তব্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে অপমান করা হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “একজন অধ্যাপক ছিলেন ব্রাত্য বসু, কিন্তু এখন তৃণমূলের চাপে তিনি নীচে নেমে গিয়েছেন। এই জায়গায় না নামলে বোধ হয় তৃণমূল করা যায় না।” শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর বক্তব্য, “আজাদ হিন্দ ফৌজের বীর সেনানীদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তুলনা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : “আমরা কি দাস নাকি?”— নজরুলমঞ্চে বিস্ফোরণ BLO-দের, স্কুল-কমিশন দ্বন্দ্বে উত্তাল প্রশিক্ষণ সভা!
বিজেপির দাবি, অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে ব্রাত্য বসুকে। শুধু ক্ষমা নয়, তাঁর পদত্যাগও দাবি করছে তারা। বিজেপি নেতাদের মতে, এই মন্তব্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর অবমাননা। যদিও এখনো পর্যন্ত ব্রাত্য বসু তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহার করেননি। বরং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, মন্তব্যটি বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী নিজে। বাংলার রাজনীতিতে এখন প্রশ্ন একটাই—ব্রাত্য কি সত্যিই ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর মর্যাদা খর্ব করলেন, নাকি এও শুধুই ভোটের আগে রাজনৈতিক খেলা?





