‘গরীব-বিরোধী বাজেট, কোনও আশার আলো নেই, বাজেটে অমাবস্যার অন্ধকার’, কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে খোঁচা মমতার

আগামী বছরেই রয়েছে লোকসভা নির্বাচন। তার আগে আরও একটি বাজেট পেশ যদিও হবে। তবে তা হবে ভোট অন অ্যাকাউন্ট। সেই কারণে এই বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সকলেই। আজ, বুধবার চলতি আর্থিক বছরের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

এদিন অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করার পর নানান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বিজেপির নেতানেত্রীরা যেমন এই বাজেটের প্রশংসা করেছেন, তেমনই আবার বিরোধীরা এই বাজেটের সমালোচনা করতেও ছাড়েন নি। এবারের এই বাজেটকে ‘গরীব-বিরোধী বাজেট’ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ, বুধবার বোলপুরে এক সভা থেকে এবারের কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে মমতা বলেন, “বাজেট না অন্য কিছু! মুখে বলা হচ্ছে দারুণ নাকি বাজেট হয়েছে। কী দারুণ? একটা কথা বেকারদের জন্য বলা নেই। সব বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে”। তিনি দাবী করেন, “চলতি আর্থিক বছরের বাজেট ”ফরচুনিস্টিক নয় অপরচুনিস্টিক”। মমতার কথায়, “এই বাজেটে আশার আলো নেই। অমাবস্যার অন্ধকার আছে। অ্যান্টি-পুওর বাজেট”।

এই একই ধরণের কথা শোনা গিয়েছে কংগ্রেস সাংসদ সুরেশের গলাতেও। তাঁর কথায়, “আদানিদের স্বার্থই দেখা হয়েছে এবারের বাজেট। এই বাজের কর্পোরেটমুখী বাজেট”। অন্যদিকে আবার জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এই বাজেট নিয়ে বলেন, গত ৮-৯ বছর ধরে যেমন বাজেট হচ্ছে তেমন বাজেটই এবারও পেশ করা হয়েছে।

তাঁর কথায়, “কল্যাণ প্রকল্পগুলি ও ভাতার অঙ্কে খরচ করা হচ্ছে না”। এদিকে আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিং জানান যে এবারের বাজেটে কৃষক ও সেনা জওয়ানরা ব্রাত্যই থেকে গিয়েছেন। তবে বিরোধীদের এমন সমালোচনার মধ্যে একটু অন্য সুর শোনা গিয়েছে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের গলায়। তাঁর কথায়, বাজেটে বেশকিছু ভালো বিষয়ও রয়েছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবারের বাজেটকে ‘মধ্যবিত্তের সুবর্ণ সুযোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, এবারের বাজেটে নারীশক্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের। তাঁর কথায়, আয়করে ছাড়ে যেভাবে ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হয়েছে, তাতে মধ্যবিত্তরা স্বস্তি পাবেন।

RELATED Articles