Mohan Bhagwat : বিয়ে কি শুধু সম্মতির বিষয়? ‘তিন সন্তান’ তত্ত্বে সমাজকে নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন মোহন ভাগবত!

সমাজের ভবিষ্যৎ কেবল আইন, প্রশাসন বা শাসনব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে থাকে না— এমনটাই মনে করেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর মতে, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে থাকে সমাজের মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতার ভিতরে। সাম্প্রতিক এক আলোচনাসভায় তিনি সমাজ, পরিবার, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বক্তৃতার শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে সামাজিক কাঠামোর গভীর যোগ রয়েছে, আর সেই যোগকে উপেক্ষা করলে ভবিষ্যৎ সংকট অনিবার্য।

এই প্রেক্ষিতেই বিয়ে ও পরিবার প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সংঘপ্রধান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ে কেবল দু’জন মানুষের সম্মতির বিষয় নয়, এর সঙ্গে সমাজের দায়ও জড়িয়ে। ‘তিন সন্তান’ ধারণার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই ভাবনাকে সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য উপযোগী মনে করা হত। যদিও বর্তমান জনসংখ্যা-চাপের বাস্তবতাকেও তিনি অস্বীকার করেননি। তবে তাঁর মতে, জনসংখ্যার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব মাথায় রাখা জরুরি।

জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পেছনে তিনটি মূল কারণের কথা উল্লেখ করেন মোহন ভাগবত— জন্মহার, ধর্মান্তর এবং অনুপ্রবেশ। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি সমাজের সক্রিয় ভূমিকার উপর জোর দেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের একার পক্ষে সবকিছু দেখা সম্ভব নয়, সাধারণ মানুষকেই রাষ্ট্রের ‘চোখ ও কান’ হতে হবে। কোথাও সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে স্থানীয়দেরই প্রশাসনকে জানানো উচিত— এমন বার্তাও দেন তিনি।

অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুধুমাত্র জিডিপি (GDP) নির্ভর উন্নয়ন ধারণার সমালোচনা করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর যুক্তি, জিডিপি আমদানি-রফতানির পরিসংখ্যান তুলে ধরলেও সমাজের প্রকৃত আর্থিক স্থিতি বা মানুষের জীবনমানের সম্পূর্ণ ছবি দেয় না। পরিমাণের সঙ্গে সঙ্গে গুণমানের ভারসাম্য না থাকলে অর্থনৈতিক শক্তি টেকসই হয় না বলেও মত তাঁর। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের উপর সংঘের প্রভাব সংক্রান্ত অভিযোগ খারিজ করে তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরই।

আরও পড়ুনঃ CPIM in Bengal: কংগ্রেস ছাড়তেই চাপ, শরিকদের বাড়তি দাবিতে জোটের পাঁকে সিপিএম?

বক্তৃতার শেষ অংশে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশ্ব হিন্দু সমাজের প্রসঙ্গও উঠে আসে। দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে থাকা বিপুল সংখ্যক হিন্দুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব হিন্দু ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। বক্তব্য শেষ করতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের কথাও জানান মোহন ভাগবত— অবসর এলেও দেশের ও সমাজের জন্য কাজ থামবে না, এই দায়িত্ববোধই তাঁর পথচলার মূল প্রেরণা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর