CPIM in Bengal: কংগ্রেস ছাড়তেই চাপ, শরিকদের বাড়তি দাবিতে জোটের পাঁকে সিপিএম?

বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে বঙ্গ রাজনীতির অঙ্ক। রাজনৈতিক শিবিরে এখন সবচেয়ে আলোচিত শব্দ—জোট। কে কার সঙ্গে যাবে, কে কার থেকে দূরে সরে দাঁড়াবে, সেই হিসেবেই বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। এই জোটের চক্রব্যূহের মাঝখানে আপাতত যে দলটি সবচেয়ে বেশি চাপে, তা হল সিপিএম। একের পর এক বৈঠক, মন্তব্য আর পাল্টা মন্তব্যে বাম রাজনীতির ভিতরেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ।

এই অনিশ্চয়তার সূত্রপাত অনেক আগেই। তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছিল জল্পনা। সেই বৈঠক শুধু বিরোধীদের নয়, বাম শরিকদের মধ্যেও প্রশ্ন তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত দল ও শরিকদের চাপেই সেই অধ্যায় আপাতত বন্ধ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তাতেও জোট সমস্যার সমাধান হয়নি। কারণ, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস একলা চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বাম-কংগ্রেস সমীকরণ ভেঙে পড়তেই দায় ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছে দুই শিবিরে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে আইএসএফ। সূত্রের খবর, তারা এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। ২০২১ সালে যেখানে তারা ৩২টি আসনে লড়েছিল, সেখানে এবার দাবি প্রায় ৫০টি আসনের। কিন্তু এত আসন ছাড়তে রাজি নয় ফরওয়ার্ড ব্লক সহ অন্য বাম শরিকরা। এখানেই জট আরও পাকাচ্ছে। আইএসএফ সমান্তরালভাবে হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গেও আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি স্পষ্ট জানাচ্ছেন, দলীয় বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

এর মধ্যেই নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে মিম। জোটের প্রস্তাব নিয়ে সিপিএমের তরফে ফোন গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি। যদিও সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, মিমের সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছেই—যদি পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে এত ভিন্ন ভিন্ন দাবি কেন সামনে আসছে?

আরও পড়ুনঃ Old Woman Tortured By Son: সম্পত্তির লোভে অমানবিকতা! দিনের পর দিন নির্যাত*নের পর ন্যায়বিচার চেয়ে থানায় গেলেন মা!

এই পুরো অঙ্কে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, সিপিএম এখন সবার দরজায় দরজায় যাচ্ছে। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর জানাচ্ছেন, জোট হলে তিনি সেলিমকেই নেতা মানবেন, তবে আসনের সংখ্যা ১৩৫-এর নিচে নামবে না। জোট না হলে ১৮২ আসনে একা লড়ার ঘোষণাও দিচ্ছেন তিনি। সব মিলিয়ে স্পষ্ট—জোটের রাজনীতিতে সিপিএম এখন এমন এক পাঁকে আটকে, যেখান থেকে বেরোনোর রাস্তা এখনও অস্পষ্ট।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles