দীপাবলির আগেই নাগরিকদের জন্য সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এমন এক ঘোষণা করলেন, যা ঘরোয়া বাজার এবং অর্থনীতির উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দেশে তৈরি পণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর ট্যাক্স কমানো হচ্ছে, এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এই ঘোষণা ধীরে ধীরে পুরো দেশের জন্য কার্যকর হবে এবং তার প্রভাব ঘরে ঘরে আসতে কিছু সময় লাগবে।
মোদী এদিন বলেন, “আট বছর পরে সময়ের দাবি অনুযায়ী জিএসটি রিভিউ করা অপরিহার্য।” এর জন্য কেন্দ্র একটি হাই-পাওয়ার কমিটি তৈরি করেছে। কমিটি রাজ্যগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছে এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতেই নেক্সট জেনারেশন জিএসটি রিফর্ম আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই রিফর্মের মূল লক্ষ্য হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমানো এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
নতুন জিএসটি রিফর্মের ফলে মূলত এমএসএমই সেক্টরগুলো উপকৃত হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী দাবি করেছেন, এই পরিবর্তনের কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই সুবিধা অনুভব করতে পারবে। একই সঙ্গে, দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা আরও দৃঢ় হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
লালকেল্লা থেকে মোদী আরও বলেন, “ইনফ্লুয়েন্সার থেকে রাজনৈতিক দল সবাইকে বলছি, ভোকাল ফর লোকাল নীতিকে নিজের জীবনের মন্ত্র বানান।” তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের মন্ত্র নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। একই সঙ্গে মোদী জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজেদের পরিসর বড় করার দিকে মনোযোগী হতে হবে, কারও পরিসর ছোট করার জন্য নয়।
আরও পড়ুনঃ Kolkata metro: কলকাতার পাতালরেলে নতুন যাত্রা শুরু! ২২ অগাস্ট মোদী উদ্বোধন করবেন তিন নতুন রুট!
মোদীর এই বার্তা এমন সময় এসেছে, যখন আমেরিকা ট্যারিফ নিয়ে চাপ তৈরি করছে। এই অবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর ঘোষণা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। দীপাবলির আগেই এই ‘উপহার’ দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেবে, এবং আগামী মাসগুলোতে এর কার্যকারিতা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠবে।





