নজিরবিহীন সৌজন্যে! রাজ্যসভা থেকে গুলাম নবি আজাদকে চোখের জলে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রী’র

দু’জনের রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক। সদাই একে অপরের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ তবে এবার রাজনৈতিক দূরত্ব হার মেনে গেল আবেগের কাছে। বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ তথা বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানাতে গিয়ে চোখের জলে ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রর মোদী।

নিজের বক্তব্যের মাঝে কয়েক মিনিট থেমে যান প্রধানমন্ত্রী। ফের ভেজা গলায় নিজের বক্তব্য শুরু করেন নমো। এদিন গুলাম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকে আমি অবসর নিতে দেব না। আপনার পরামর্শ নিতেই থাকব। আপনার জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা’।

গুলাম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী’র আর‌ও মন্তব্য, ‘তিনি যে শুধু তাঁর দল নিয়ে মাথা ঘামাতেন তা কিন্তু নয়। একইসঙ্গে দেশ নিয়েও তাঁর মাথাব্যথা ছিল’। জম্মু-কাশ্মীরে গুজরাতের তীর্থযাত্রীদের উপর জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, এই ঘটনা সম্পর্কে গুলামই তাঁকে জানান। দু’বার গুলাম তাঁকে ফোন করেন। নমোর কথায়, গুলাম নবি আজাদ পরিবারের সদস্যেদের মতো সকলের যত্ন নেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,কংগ্রেস বনাম বিজেপির লড়াইয়ে সদাই সরগরম থাকে রাজধানীর রাজনীতি।রোজই নানা ইস্যুতে দু’দলের মধ্যে বাগযুদ্ধ চলে। রাজ্যসভায় শাসক-বিরোধী তরজাও চেনা পরিচিত ছবি। কিন্তু, রাজনীতির সেই বিভাজন দূরে সরিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রতিপক্ষ নেতার প্রতি যে সৌজন্যে দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তা সত্যিই প্রশংসনীয়।  আবেগঘন গলায় তাঁর বক্তব্য পেশ করা রাজ্যসভার চেনা ছবিই এদিন বদলে দেয়। এমন বেনজির সৌজন্য হালফিলে সংসদ কমই দেখেছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের। যদিও এর আগেও সংসদীয় গণতন্ত্রে সৌজন্যের ছবির সাক্ষী থেকেছে দেশ।

গুলাম নবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এদিন এও জানিয়েছেন, একজন বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দলীয় রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, গুলাম নবি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশকে প্রাধান্য দিয়েছেন সবসময়। রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর পরামর্শ যে কতখানি মূল্যবান, সে কথাও তুলে ধরেছেন নমো। এদিন রাজ্যসভায় মোদী বলেন, ‘বহু বছর ধরে গুলাম নবিকে চিনি। আমরা একসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেও ওঁর সঙ্গে কথা হত। উনি একজন সত্যিকারের বন্ধু’।

RELATED Articles