বিনামূল্যে চিকিৎসা যে আজও কতটা কষ্টসাধ্য তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এই হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় ন্যূনতম কম্বলটুকুও ছাড়া মাটিতে শুয়ে রয়েছে সদ্যোজাতরা। কারও রেকটামে অপারেশন, তো কারও পেটে। নেই গরম জলের কোনও ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসকও। এমন তীব্র অব্যবস্থা NRS শিশু শল্য বিভাগে।
ছোট্ট শরীরে কাঁচা অপারেশনের যন্ত্রণা, চারিদিকের নোংরা, সেই সঙ্গে শীত। বিনা খরচে ভালো চিকিৎসার জন্য দূর দূর থেকে বাবা মায়েরা নিয়ে এসেছেন তাঁদের সন্তানকে । খুব স্বাভাবিকভাবেই সঙ্গে করে মোটা কম্বল বিছানা নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। মায়েরা জানাচ্ছেন, সন্তানকে খাওয়ানোর ও স্নান করানোর জন্য হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায় না সামান্য গরম জলটুকুও। শিশুগুলোর আশ্রয় বলতে একমাত্র মায়ের কোল।
সদ্য অপারেশন হওয়া শরীর গুলোতে যখন কোনওভাবেই সংক্রমণ হতে দেওয়া যাবে না, তখন তাঁদের পড়ে থাকতে হচ্ছে মাটিতে। নোংরা থেকে রোগ বাঁধছে শিশুদের শরীরে।
দিনের পর দিন মাটিতে শুয়ে অন্য রোগ বাঁধছে শিশুদের শরীরে। অপারেশনে সফল হলেও ডাক্তাররা যে ভয় পান, তা হয় সংক্রমণের।
যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই স্বয়ং রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেই রাজ্যেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এমন বেহাল অবস্থা সত্যিই বিস্ময়ের উদ্রেক করে। ভাবায়ও বটে!
কিন্তু কেনও এই দুর্দশা? রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর নিশ্চই জানে একমাত্র নীল রতন হাসপাতালে রয়েছে এই বিভাগ, তাহলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই শিশু শল্য বিভাগের পরিকাঠামোর দিকে রাজ্যের স্বাস্থ্যদফতরের আরও বেশি করে নজর দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সে সব তো দূরে থাক। ন্যূনতম পরিকাঠামো টুকুও পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে নীল রতন সরকার হাসপাতালে শিশু শল্য বিভাগে সেই সংক্রমণের ভয়কে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছে না কর্তৃপক্ষ। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, রোগী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে মিটিং করা হয়ছে। রোগীর রাস কমেনি বরং বেড়ে যাচ্ছে। চিকিৎসা প্রত্যেক শিশুর হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বেড ও চিকিৎসক না থাকায় আমাদের হাত পা বাঁধা। শিক্ষক পদমর্যাদার চিকিৎসক প্রয়োজন ২০ জন। বর্তমানে রয়েছেন ১ জন। ১২ বেডে এনএসএনসিইউতে ভর্তি ২৫ জন। ৬০ জনের ওয়ার্ডে ভর্তি ১৪০ জন।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফুল্ল কুমার মিশ্র’র কথায়, ‘মাটিতে থাকলে চিকিৎসকদেরও সমস্যা হয় ইনজেকশন দিতে বা অন্যান্য কাজে। পাশাপাশি যে রোগ নিয়ে আসে, তার থেকে বেশি রোগ নিয়ে ফিরে যেতে হয়। কারণ, স্বাভাবিক ভাবেই শিশুদের শরীরে পুষ্টির অভাব থাকে। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হল, স্বাস্থ্যে বাড়াতে হবে বাজেট। পরিকাঠামো উন্নত করতে হবে। ডাক্তার বাড়াতে হবে। ট্রেনিং সিস্টেম ভালো করতে হবে। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বন্ড সিস্টেম করে দেওয়ার জন্য অনেকেই পড়তে আসছেন না’।






