ভারতে করোনা মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মহারাষ্ট্র ও দিল্লি।থামছেনা মৃত্যু মিছিল। যোগান দিয়ে ওঠা যাচ্ছেনা দাহ করার কাঠ l হাসপাতালে জায়গা পাওয়া এখন নেহাতই হাস্যস্পদ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আকাল ওষুধের, অক্সিজেনের। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য নূন্যতম স্বাস্থ্যপরিসেবা টুকু ভেঙে পড়েছে।
এই অবস্থায় এবার ক্ষোভ জমছে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। ভারত থেকে ব্যাপক পরিমাণে অক্সিজেন, প্রতিষেধক রপ্তানির জন্য ভুগতে হচ্ছে আপামর ভারতবর্ষকে। মিলছেনা পর্যাপ্ত অক্সিজেন মৃত্যু হচ্ছে রোগীর।
এবার জানা যাচ্ছে আগামী লোকসভা ভোটের আগেই দিল্লিকে নতুন করে সাজাতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। আর তার জন্য আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।
অভিযোগ উঠেছে করোনার এই ভয়াবহতার মধ্যেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনও খামতি নেই বলে অভিযোগ। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, পুরনো সংসদ ভবনের সামনে একটি নতুন সংসদ ভবন তৈরি হবে। আর ব্রিটিশ আমলে তৈরি ৯৪ বছরের পুরনো সংসদ ভবনটি জাদুঘর হিসাবে সাজানো হবে। এখানেই শেষ নয়। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি নতুন বাসভবন তৈরি হবে। সেই সঙ্গে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেন্ট্রাল দিল্লিতে প্রায় ৫০টি ফুটবল মাঠের সমান জায়গাতে চলছে এই কর্মকাণ্ড। আর ভারতে স্বাধীনতার ৭৫ বছরে, অর্থাৎ আর এক বছরের মধ্যেই ২০২২ সালেই এই ভবন উদ্বোধন হতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
কিন্তু দিল্লির এই চরম সংকটে যেখানে মানুষের প্রাণ নিয়ে টানাটানি চলছে সেখানে এই ধরনের বিলাসিতার যে ঠিক কতটা প্রয়োজন আছে তা বুঝে উঠতে পারছেনা ভারতবাসী। তবে দিল্লি বাঁচাতে প্রাণ দিয়ে লড়ে চলেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
তাঁর নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেজরিওয়াল আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ব্যাংকক থেকে ১৮টি অক্সিজেন ট্যাঙ্কার আনা হচ্ছে যা বুধবারই দিল্লিতে এসে পৌঁছবে। এর ফলে আরও দ্রুত হাসপাতালে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে ফ্রান্স থেকে আনা হচ্ছে ২১টি অক্সিজেন প্লান্ট। যেগুলি আনার পরই ব্যবহার করা যাবে। এগুলি দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে বসানো থাকবে। ফলে অক্সিজেন সমস্যা আরও কিছুটা কমবে বলে আশা কেজরির।






