মঙ্গলবার লোকসভায় পেশ হওয়ার কথা এক দেশ এক ভোট বিল। এই বিল পেশ করবেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল। আলোচ্য সূচিতে এক দেশ এক ভোট বিলের উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি দলগতভাবে জারি করেছে হুইপ। দলীয় সাংসদদের সংসদে উপস্থিত থাকার জন্য এই হুইপ জারি করল তৃণমূল। ঠিক কী কী বলা হল প্রস্তাবিত এই আইনে?
‘এক দেশ এক ভোট বিলে’ কি বলা হয়েছে?
১) বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন সংসদ গঠনের (ধরা যাক ২০২৯) প্রথম সংসদ অধিবেশনের দিন রাষ্ট্রপতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ আইন চালু করবেন।
২) দ্বিতীয়ত, এই আইন চালু হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদ এবং সমস্ত বিধানসভার মেয়াদ হবে তখন থেকে পরবর্তী প্রায় ৫ বছর।
৩) শেষ হবে সমস্ত বিধানসভার সময়সীমা। অর্থাৎ যদি দেখা যায় কোনও বিধানসভার সময়সীমা সংসদের ৫ বছরের সময়সীমার পর শেষ হওয়ার কথা থেকে থাকে, তাহলে সেই বিধানসভারও সময়সীমাও একইসঙ্গে শেষ হবে।
৪) নির্বাচন কমিশন পাঁচ বছরের এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একসঙ্গে করাবে সাধারণ নির্বাচন (সংসদ গঠনের জন্য) এবং বিধানসভা নির্বাচন।
৫) এবার নির্বাচন কমিশন যদি প্রয়োজন বোধ করে, তবে কোনও বিধানসভার নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের পর করানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দিতে পারে।
৬) কিন্তু পরে নির্বাচন হলেও সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধানসভার মেয়াদ সংসদের মেয়াদের সঙ্গেই নাকি শেষ হবে।
৭) এবার যদি সংসদ মধ্যবর্তী কোনো সময়ে ভেঙে যায়, তাহলে নতুন নির্বাচন করা হবে, যাকে বলা হবে ‘মিড টার্ম ইলেকশন’।
৮) তবে, সেক্ষেত্রে নতুন সংসদের সময়সীমা শেষ হবে পূর্বের সংসদের সময়সীমাতেই।
৯) আবার, একই নিয়ম লাগু হবে বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও।
আরও পড়ুনঃ পুরুলিয়ায় তৃণমূলের ‘উন্নয়ন’, ভাঙল রবীন্দ্রনাথের মূর্তি—দুর্গাপুরে সিপিএমের ফ্লেক্সে ঢাকা নজরুল
সংবিধানের কোন কোন ধারা সংশোধন এবং নতুন কী কী সংযোজন করা হচ্ছে ?
সূত্রের খবর, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৭ ধারায় ‘কনস্টিটিউয়েন্সের ডিলিমিটেশন’-এর পর যুক্ত হতে চলেছে “কনডাক্ট অফ দ্য সাইমালটেনাস ইলেকশন” বা “একই সঙ্গে নির্বাচন করানো”—- এই শব্দগুচ্ছ। এছাড়াও সংবিধানে ৮২ নং ধারার পর যুক্ত হবে নতুন ৮২এ ধারা (যার মধ্যে থাকবে ৭টি ক্লজ)। ৮৩ নং ধারায় ক্লজ- ২ এর পর যুক্ত হবে পাঁচটি নতুন ক্লজ। ১৭২ নং ধারার ক্লজ-১ এর পর যুক্ত হবে ১-এ ক্লজ। ১৭২ নং ধারার আবার ক্লজ-২ এর পর যুক্ত হবে আরও তিনটি নতুন ক্লজ। এখন প্রশ্ন হল, বিল পাস হলে নতুন আইন চালু হবে কবে? সেক্ষেত্রে তা হতে পারে ডিলিমিটেশন এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ গঠনের পর।






