পুরুলিয়ায় তৃণমূলের ‘উন্নয়ন’, ভাঙল রবীন্দ্রনাথের মূর্তি—দুর্গাপুরে সিপিএমের ফ্লেক্সে ঢাকা নজরুল

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে পুরুলিয়ায়। রবিবার পুরুলিয়া পুরসভার গেটের সামনে ‘গীতাঞ্জলি’ বেদিতে স্থাপিত রবীন্দ্রনাথের মূর্তি হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০২১ সালে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা এই মূর্তি স্থাপন করেছিল। পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি জানান, ‘‘মূর্তির কারণে ড্রেন আটকে যাচ্ছিল। সসম্মানে মূর্তি সরিয়ে অন্য জায়গায় বসানো হবে।’’ তবে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের শহর সভাপতি কাজল মুখোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পনাহীন’ বলে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিবেক রঙ্গা বলেন, ‘‘মূর্তি সরানোর নামে সংস্কৃতির অপমান হচ্ছে। এটা টেন্ডার ডেকে দুর্নীতি করার নতুন পথ।’’ সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘উন্নয়নের নামে কেন সাংস্কৃতিক চিহ্ন মুছে ফেলা হবে?’’

দুর্গাপুরে নজরুলের মূর্তি ঢাকল ফ্লেক্স এদিকে দুর্গাপুরে নজরুল ইসলামের মূর্তিকে রাজনৈতিক পতাকা ও ফ্লেক্স দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় সিপিএম-এর এরিয়া কমিটির সম্মেলনের প্রচারের সময়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও সীতারাম ইয়েচুরির ছবিসহ একটি ফ্লেক্স নজরুলের মূর্তির ওপর পড়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষই এই ঘটনাকে নজরুলের প্রতি ‘অসম্মান’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।

তবে সিপিএম-এর নেতা বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘লালঝান্ডার আলোয় নজরুল আরও উদ্ভাসিত হন। নজরুল সংগ্রামের কবি, এখানে অসম্মানের প্রশ্নই নেই।’’ যদিও বিরোধীরা একে রাজনৈতিক প্রচারের নামে বাংলার সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা বলে চিহ্নিত করছে।

নিজের কাজেই সবাইকে জবাব দিলেন সবার আদরের মিঠাই রানী! সবাইকে হারিয়ে সেরা নায়িকা তিনিই 

পুরুলিয়া ও দুর্গাপুরের এই দুই ঘটনা বাংলার মনীষীদের প্রতি সম্মানবোধ ও রাজনৈতিক আধিপত্যের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ‘‘রাজনীতির স্বার্থে কি বারবার রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মতো প্রতীককে অসম্মান করা হবে?’’

RELATED Articles