ঘুরতে গিয়ে কেউ আর ফিরে না এলে কী হয়, ভেবেছেন কখনও? ছুটির ছন্দে প্রকৃতির সান্নিধ্য খুঁজতে গিয়েই আজ অনেকে লাশ হয়ে ফিরছেন। কাশ্মীর, যাকে আমরা বলি ‘স্বর্গ’, সেই জমিতেই ফের রক্তাক্ত হামলা। অজানা আতঙ্কে শিউরে উঠছে সাধারণ মানুষ। কেউ বলছেন, “পর্যটকদের নিশানা! তাহলে আমরা আর কোথায় নিরাপদ?” কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন, “প্রতিবারের মতোই শুধু শোকপ্রকাশে শেষ না হয় এইবার।”
শুধু আতঙ্ক নয়, আক্রোশও উথলে উঠেছে মানুষের মুখে-মুখে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন ঝড় বইছে। ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?’—এই প্রশ্ন আজ সর্বত্র। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে থাকলেও, দেশের মাটি রক্তে ভেসেছে শুনেই সিদ্ধান্ত নেন, আর এক মুহূর্তও নয়, ফিরতে হবে।
বুধবার সকালে সৌদি সফর মাঝপথে থামিয়ে দিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে নেমেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে তখন ক্ষোভ ও দৃঢ়তা—”অপরাধীরা কোনওভাবেই ছাড় পাবে না।” সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “এই জঘন্য ঘটনার পিছনে যারা রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবেই।” একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কেন্দ্রও দ্রুত তৎপর হয়েছে। দিল্লিতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মীরে পৌঁছেছেন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং উপ-রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকে তিনি পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর জোর দেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, “এ ধরনের হামলা একেবারে বর্বর। পর্যটকদের নিশানা করে যারা হামলা চালায়, তারা মানবতা বিরোধী।”
আরও পড়ুনঃ Weather update: চরম তাপে হাঁসফাঁস বাংলা, আবার কবে আসছে কালবৈশাখী? হাওয়া অফিস জানালো আশার খবর !
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “স্বাভাবিক পরিস্থিতির নামে আর ভাঁওতা নয়, এবার দায় নিতে হবে সরকারকে।” সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও মিলেছে প্রতিক্রিয়া—রাশিয়া, জার্মানি, ইজরায়েল এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফোনে কথা বলেছেন মোদির সঙ্গে। সবাই জানিয়েছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে রয়েছে তারা। এদিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। সবাই এখন অপেক্ষায়—সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক কী?





